kalerkantho


ইরানের ওপর ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা’ আসছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মে, ২০১৮ ২১:০২



ইরানের ওপর ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা’ আসছে

ইরানের ওপর ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা’ আসছে বলে  সোমবার জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। রাজধানী ওয়াশিংটনে দেয়া এক বক্তৃতায় এই নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা জানান তিনি।

পম্পেও বলেন, ‘ইরানের বাড়াবাড়ি রুখে দিতে’ মিত্র শক্তিগুলোর সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া এ নিষেধাজ্ঞা জারির পর নিজেদের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে ইরানকে ‘যুদ্ধ’ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পম্পেও আরও বলেন, ‘আমরা ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ দিতে যাচ্ছি। আমাদের কঠিন অবস্থা নিয়ে তেহরানের নেতাদের আর কোনো সন্দেহ থাকবে না। ইরান আর কখনও মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরে যেতে পারবে না।’

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে ছয় জাতির একটি চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও রয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়া। 
সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবং ইরানের ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার জারি করেন।

ওদিকে, ইউরোপীয় কমিশন আইন পাশের মাধ্যমে ইউরোপীয় কম্পানিগুলোকে তেহরানে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য করতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক ক্ষতি হতে পারে এমন শঙ্কায় তেহরানে কাজ বন্ধ করে দিতে চাইছে প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান তেহরান থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ডেনমার্ক, জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান এই ঘোষণা দিয়েছে। ইরানে ব্যবসা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-ডেনিশ শিপিং জায়ান্ট ম্যাস্ক ট্যাঙ্কারস, জার্মান ইনসুরার অ্যালিয়ানজ এবং ইতালিয়ান স্টিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড্যানিয়েলি। প্রতিষ্ঠানগুলো এক ঘোষণায় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা দেশটিতে কোনো ধরণের কার্যক্রম চালাবে না।

এদিকে ফ্রান্সের শক্তি ও জ্বালানি বিষয়ক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান টুটালও এক বিবৃতিতে হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অনুমতি না দিলে তারা দেশটির পারস গ্যাস ফিল্ডের মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাতিল করবে।

এরই প্রেক্ষিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে করা ছয় জাতিগোষ্ঠীর পারমাণবিক চুক্তিটি রক্ষা করতে হলে দেশটিতে ইউরোপের দেশগুলোর বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

এর কারণ হিসেবে জাভেদ জারিফ বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে, চুক্তিটি রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক ইচ্ছা যথেষ্ট আশাবাদী নয়।’

গত রবিবার ইরানের রাজধানী তেহরানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার মাইগুয়েল আরিয়াস ক্যানেটের সঙ্গে বৈঠকে জারিফ এ হুমকি দেন।

সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা



মন্তব্য