kalerkantho


ভাড়াটে খুনিকে ঘরে বসিয়ে স্ত্রীকে তাড়াতাড়ি ফিরতে বলেন স্বামী!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মে, ২০১৮ ১৩:৫১



ভাড়াটে খুনিকে ঘরে বসিয়ে স্ত্রীকে তাড়াতাড়ি ফিরতে বলেন স্বামী!

কৈখালির চিড়িয়াবাগানে সিভিক ভলান্টিয়ার শম্পা দাসকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে খুন করিয়েছিলেন তার স্বামী সুপ্রতিম। টানা জেরার পর সুপ্রতিম রবিবার পুরো ঘটনাটি স্বীকার করেন। গত শুক্রবার ফোন করে শম্পাকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে বলেছিলেন সুপ্রতিম। বলা হয়েছিল, বাড়িতে মাংস কেনা রয়েছে। শম্পা যেন থানা থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরেন। তাই নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বাড়ি ফিরে আসেন নিউটাউন থানার সিভিক ভলান্টিয়ার শম্পা দাস। তিনি কি ভেবেছিলেন, এই ফেরাই তার শেষ ফেরা হবে?

সুপ্রতিমকে গ্রেপ্তার করার পর তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে সেই ভাড়াটে খুনিকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন গ্রেপ্তারের অপেক্ষা। সুপ্রতিম ছাড়াও এই খুনের ঘটনায় তার মা মীরা এবং পরিচারিকা মায়ার ভূমিকা আছে বলেও সন্দেহ করছে পুলিশ। তাদেরও জেরা করে হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, শম্পার রক্তাক্ত দেহ পাওয়া গিয়েছিল বাড়ির সিঁড়ির উপর। আর সুপ্রতিমকে একটি সোফার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী হওয়া সত্ত্বেও তার বক্তব্যে অনেক অসঙ্গতি খুঁজে পান তদন্তকারীরা। শেষ পর্যন্ত জেরার মুখে সুপ্রতিম স্বীকার করেন, ভাড়াটে খুনি দিয়ে শম্পাকে খুন করানোর কথা। শম্পার সঙ্গে নিউটাউন থানার অন্য এক সিভিক ভলান্টিয়ারের ঘনিষ্ঠতা ছিল- এমন সন্দেহ থেকেই খুনের পরিকল্পনা করেন তিনি।

কিন্তু প্রতিবন্ধী হওয়ায়, সুপ্রতীমকে পক্ষে শম্পাকে খুন করা সম্ভব ছিল না। তাই ভাড়াটে খুনির সাহায্য নেওয়া হয়। সেই ভাড়াটে খুনিই শুক্রবার পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়িতে অপেক্ষা করছিল। শম্পা বাড়ি ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে তর ওপর। শম্পাকে খুন করে সুপ্রতিমকে বেঁধে রেখে যায়। লণ্ডভণ্ড করে দেয় ঘর-আলমারি। যাতে মনে হয় ডাকাত এসেছিল বাড়িতে। বাঁধা দিতে যাওয়ায় শম্পাকে খুন করা হয়। সুপ্রতিমের এই বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য মনে করেনি পুলিশ। এক তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা শম্পার সহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। যে সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠতার কথা বলা হচ্ছে, তিনি শম্পার ভাল বন্ধু ছিলেন। এর থেকে বেশি আর কিছু নয়।'

অন্য দিকে শম্পার ভাই রবিবার তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, শম্পার নামে রাজারহাটে একটি জমি আছে। সেই জমি সুপ্রতিমের নামে লিখে দেওয়ার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে চাপ দিচ্ছিলেন শম্পার শাশুড়ি এবং সুপ্রতিম। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সুপ্রতিম সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করলেও, শারিরীক প্রতিবন্ধকতার জন্য বাড়িতেই থাকতেন। শম্পার আয় এবং সুপ্রতিমের বাবার রেখা যাওয়া টাকা দিয়েই চলত সংসার। সুপ্রতিমের এক মাসি বিদেশে থাকেন। সুপ্রতিমের মায়ের ইচ্ছে ছিল, সব সম্পত্তি বিক্রি করে ছেলেকে নিয়ে বিদেশে চলে যাওয়া। তাই তদন্তকারীদের সন্দেহ, সম্পত্তির লোভেও খুনের পরিকল্পনা করা হতে পারে। সোমবারই সুপ্রতিমকে আদালতে তোলা হবে।



মন্তব্য