kalerkantho


কর্ণাটকে বিধায়কের দাম ২০০ কোটি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ মে, ২০১৮ ১৮:৪০



কর্ণাটকে বিধায়কের দাম ২০০ কোটি!

কোথাও উড়ছে ১০০ কোটি, কোথাওবা দ্বিগুণ। ফেল কড়ি তোল বিধায়ক (সংসদ সদস্য)। ভোটের জটিল অঙ্কে এই সমীকরণেই লাফিযে বাড়ছে টাকার অঙ্কও। এমনটাই চলছে ভারতের কর্ণাটক নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময়।

গোড়ায় অভিযোগটা তুলেছিলেন জেডিএস নেতা কুমারস্বামী।  সরকার গড়ার দাবি জানানোর পর তোপ দেগে বলেছিলেন, তাঁদের বিধায়কদের দলে টানতে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে চাইছে বিজেপি।

আজ শুক্রবার জেডিএসের আরেক নেতার অভিযোগ আরও গুরুতর। জি টি দেবেগৌড়া অভিযোগ করছেন, ‘১০০ কোটি নয়, বিধায়কদের দাম ধার্য করা হচ্ছে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত।’ যদিও দেবেগৌড়ার দাবি, তাঁদের দলের বিধায়করা একত্রিত আছেন, বিজেপির প্রলোভনে পা দেবেন না কেউই।

একা জেডিএস নয়, কর্ণাটকে কংগ্রেস বিধায়কদেরও কোটি কোটি টাকায় কেনার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠছে বিজেপির বিরুদ্ধে।

ক্ষমতায় আসার আগে রাজনৈতিক দলগুলিকে দুর্নীতিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন  ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সে লক্ষ্যে পদক্ষেপ যে আদৌ নেওয়া হয়নি তা নয়। রাজনৈতিক দলগুলির আয়ের উৎস নথিভুক্ত করা এখন বাধ্যতামূলক। ২০০০ টাকার বেশি চাঁদা এখন নগদে দেওয়া যায় না।

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত করতেও নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের জন্য প্রার্থীপিছু খরচের উর্ধ্বসীমা বেঁধে দিয়েছে সরকার। লোকসভার ক্ষেত্রে তা প্রতিনিধি পিছু ৭০ লক্ষ, এবং বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিপিছু সর্বোচ্চ ২৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করা যায় প্রচারে। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ করার একটা প্রয়াস করেছিল সরকার।

কিন্তু সরকারের সেই প্রয়াসকে বুড়ো আঙুল দেখাল কর্ণাটক। নির্বাচনে দেখা গেল সেই কোটি কোটি টাকা ওড়ানোর পুরনো খেলা। সেন্টার ফর মিডিয়া স্টাডিজ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী অরাজনৈতিক সংস্থার করা সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন হয়ে গেল কর্ণাটকে। কন্নড়ভূমে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে রাজনৈতিক দলগুলি।

অভিযোগ উঠেছে কর্ণাটকে হিসেব বহির্ভূত হাজার হাজার কোটি টাকা অর্থাৎ কালো টাকা খরচ হয়েছে। একাধারে দুর্নীতি এবং কালো টাকা, দুটি মারাত্মক বস্তুই বাসা বেধেছে বেঙ্গালুরুতে।

কালো টাকা রুখতেই নোট বাতিলের মত কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি, উদ্দেশ্য ছিল দুর্নীতিদমনও। কিন্তু, সরকারে আসার পর সাড়ে চার বছর এবং নোট বাতিলের পর দেড় বছর কেটে গেলেও একটি নির্বাচন প্রক্রিয়া  স্বচ্ছ্বভাবে করা গেল না কেন?

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন



মন্তব্য