kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা পেতে মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদশালী দেশগুলোকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০৪:০৯



যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা পেতে মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদশালী দেশগুলোকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা পেতে হলে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি 'অঢেল সম্পদশালী' দেশকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া এই দেশগুলো এক সপ্তাহও টিকবে না। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁন’র সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র সুরক্ষা দিচ্ছে। এতে পাশাপাশি ফ্রান্সেরও ভূমিকা রয়েছে। তবে সেটা আমেরিকার চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম। এখন তাদের উদ্যোগী হতে হবে। এসবের জন্য আমাদের অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

সিরিয়া ইস্যুতে ট্রাম্প বলেন, দেশটিতে মার্কিন সেনাদের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজস্ব বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে সুনির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উচ্চারণ করেননি ট্রাম্প। তবে এ মাসের গোড়ার দিকে খোলাখুলিভাবে সৌদি আরবের কাছে সিরিয়া যুদ্ধের সামরিক ব্যয় দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সৌদি আরব যদি সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত দেখতে চায় তাহলে তাদের ওয়াশিংটনকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা আইএস'কে পরাজিত করার কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছি। শিগগিরই আমরা অন্যদের সঙ্গে সমন্বয়ের ব্যাপারে একটি নতুন সংকল্পে আসবো। আমাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সৌদি আরব খুবই আগ্রহী। আমি তাদের বলে দিয়েছি যে, আপনারা চাইছেন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় অবস্থান করুক। তাহলে আপনারাই হয়তো এর জন্য অর্থ পরিশোধ করতে যাচ্ছেন।

গত মার্চে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় সৌদি আরবের অঢেল সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে যুবরাজের প্রতি আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সৌদি আরব খুব ধনী দেশ। নিজেদের সম্পদের কিছু অংশ তারা যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে যাচ্ছে। দুনিয়ার সেরা সামরিক সরঞ্জামাদি কেনার জন্য, মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের জন্য তারা এই অর্থ দেবে। তাদের মার্কিন অস্ত্র ক্রয়ের কারণে শত শত কোটি ডলার ঘরে তুলতে সক্ষম হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অস্ত্র ব্যবসায় ৪০ হাজার মার্কিন নাগরিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে।

এদিকে, ট্রাম্পের মঙ্গলবারের মন্তব্যের পর এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের বলেছেন, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতির জন্য কাতারকে অবশ্যই অর্থ দিতে হবে। সিরিয়ায় তাদের নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কাতারের সুরক্ষা বাতিলের আগেই তাদের এটা করতে হবে। সুনির্দিষ্টভাবে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি নিয়েও কথা বলেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র সেনা সরিয়ে নিলে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে কাতার সরকারের পতন ঘটবে।'


মন্তব্য