kalerkantho


ইরানের বিরুদ্ধে সহায়তা চাইতেই যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি যুবরাজ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ মার্চ, ২০১৮ ২০:৩৬



ইরানের বিরুদ্ধে সহায়তা চাইতেই যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি যুবরাজ

যুক্তরাষ্ট্রে সফরত সৌদি-আরবের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ মার্চ, ২০১৮) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। ইরানের পারমাণবিক ইস্যুসহ ইয়েমেন পরিস্থিতি ওই বৈঠকে স্থান পেতে যাচ্ছে। আর ইরানকে থামাতে সব ধরণের সহযোগিতা চাইতে পারনে সৌদি যুবরাজ, এমনটাই মনে করছে বিশ্লেষকরা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিবিএস নিউজকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সৌদি প্রিন্স। সাক্ষাৎকারে বিন সালমান অভিযোগ করে বলেন, সৌদি-আরবে নারী-পুরুষ সব সমান। সৌদি আরব প্রগতিশীলতায় বিশ্বাস করে। ষাট ও ষত্তরের দশকে সৌদি-আরবে নাটক-সিনেমা-থিয়েটার ছিল জানিয়ে সৌদ প্রিন্স বলেন, ৭৯ সালে ইরান বিপ্লবের পর সেই প্রতিক্রিয়াশীলতার ঢেউ সৌদি-আরবে এসে আঁছড়ে পড়ে।

সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিন সালমান আরও বলেন, সৌদি-আরব নারী-পুরুষের মধ্যে কোন পার্থক্য দেখে না। সম্প্রতি দেশটিতে থিয়েটার খোলাসহ, নারীদের বাধ্যতামূলক বোরখা পরিধান প্রথা উঠিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন বিন সালমান। গত রোববার সিবিএস টিভিতে প্রচারিত অনুষ্ঠানে বিন সালমান বলেন, ১৯৭৯ সালে ইরান বিপ্লবের পর সৌদি সমাজের পরিবর্তন ঘটে যায়।

ইরানের বিপ্লবকে সন্ত্রাসী বিপ্লব হিসেবে আখ্যায়িত করে বিন সালমান বলেন, আমাদের দেশেও সন্ত্রাসী আছে, ওরা ইরানের কাছ থেকে নেওয়া আদর্শানুযায়ী নারী-পুরুষকে এক কাতারে চিন্তা করতে পারে না। আর এইসব উদ্ভট চিন্তা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আমলেও ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, আমরা সবাই মানুষ, আমাদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

ষাট ও ষত্তরের দশকের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ওই সময় নারীরা আমাদের দেশে গাড়ি চালাতো। থিয়েটারে গিয়ে সিনেমা দেখতো। নারীরা সর্বত্র বিশেষ করে তাদের কর্মক্ষেত্রে নিঃসঙ্কোচে কাজ করতে পারতো। তবে ৭৯ সালের পর থেকে দৃশ্যপট পাল্টাতে থাকে।

এদিকে ইরানকে থামাতে সব ধরণের সহযোগিতা চাইতে পারেন প্রিন্স সালমান, এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিন সালমান নিজেও। ইয়েমেন ও কাতার ইস্যুতে ইরান ও হিজবুল্লাহর আধিপত্যের বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন তিনি। এ ছাড়া ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরি থেকে নিবৃত্ত করতে প্রয়োজনে সব ধরণের পদক্ষেপ নিতেও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আহ্বান জানাতে পারেন বিন সালমান। এমনই ইঙ্গিত মিলেছে সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। তবে ইরান বানালেও সৌদি আরব পরমাণু বোমা বানাবে না বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।


মন্তব্য