kalerkantho


ত্রিভুবন বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলল নেপালি টাইমস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৮ ১৯:৫৮



ত্রিভুবন বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলল নেপালি টাইমস

এবার ত্রিভুবন বিমানবন্দরের রানওয়ে ব্যবস্থাপনা ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুললো নেপালেরই সংবাদমাধ্যম ‘নেপালি টাইমস’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইউএস বাংলার প্লেনটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগ মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে ‘নেপালি টাইমস’ বলছে, ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে প্রশ্নের মুখে পড়লো।

ওই ভিডিও নিয়ে দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, বিমানবন্দর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে থাকতেই বিএস২১১ ফ্লাইটটি ভূপৃষ্ঠের মাত্র ২০০ ফুট উচ্চতায় নেমে আসে। এ সময় এর ল্যান্ডিং গিয়ার বের হয়ে থাকতে দেখা যায়, যেটা বের হয় একেবারে অবতরণের প্রস্তুতিকালে। ভবন ও গাছপালার ওপর দিয়ে প্লেনটিকে উড়তে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘প্লেনটি পথ হারিয়ে ফেলেছে নাকি। উড়ছে তো উড়ছেই...’

‘২০ বাই ০২’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, অবতরণের প্রস্তুতিকালে দু রকম নির্দেশনায় বিএস২১১ ফ্লাইটের পাইলট বিভ্রান্তিতে পড়ায় তখন এটিসি টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগরত আরেকটি ফ্লাইটের এক নেপালি পাইলট বলে ওঠেন, বিএস২১১ এর পাইলটকে বিভ্রান্ত মনে হচ্ছে এবং তাকে রাডারের সাহায্যে বিপজ্জনক পথ থেকে সরিয়ে নেওয়া উচিত। তাদের কথায় স্পষ্ট হচ্ছিল যে, এটিসি থেকে বারবার নির্দেশনা বদলের কারণে পাইলট বুঝতে পারছিলেন না, তিনি পাহাড়ি বিমানবন্দরের কোথায় আছেন বা কোথায় থামবেন।

তখন যেমন সমূহবিপদ বোঝা যাচ্ছিল, তেমনি নতুন ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে স্পষ্ট হয়, একেবারে নিচে এসে অবতরণের জন্য ল্যান্ডিং গিয়ার বের করে ফেলে প্লেনটি।

এটিসি যদি এ দু টি বিপদই একসঙ্গে দেখতে পাচ্ছিল, তবে কেন শেষ দিকে এসে বিএস২১১ এর পাইলটকে রানওয়ে দেখা যাচ্ছে কি-না প্রশ্ন করছিল? বিপজ্জনক কিছু আঁচ করতে পেরে কেন তাকে ভিজুয়াল ফ্লাইট রুলস (রানওয়ে দেখে এটিসির নির্দেশনায় অবতরণ) থেকে ইনস্ট্রুমেন্টাল ল্যান্ডিং সিস্টেমে (আইএলএস) নিয়ে এলো না?

ভারী বর্ষণ বা প্রবল ঝড়ো বাতাসের কারণে ক্রস উইন্ড বা পার্শ্বমুখী বাতাসের ঝাপটায় প্লেন অবতরণে বাধাগ্রস্ত হলে জরুরি আইএলএস ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তখন প্লেনের যন্ত্রপাতিই পাইলটকে সঠিক পথে রানওয়ে’র কাছে নিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে পাইলট উইন্ডস্ক্রিনে নজর না রেখে ককপিটের সরঞ্জামে মনোযোগী হলেই চলে।

নেপালি টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রানওয়ে নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে আকাশে এই বিপদ নিয়ে ওড়ার সময়ও পাইলট শান্তভাবে এটিসির কাছে জানতে চান, ‘স্যার, আমাদের কি নামার অনুমতি দেওয়া হয়েছে?’ তখন ১০ কিলোমিটার দূরে থাকা নেপাল সেনাবাহিনীর একটি প্লেনের সঙ্গে যোগাযোগে বিএস২১১ এর জন্য রানওয়ে চূড়ান্ত বলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই এটিসি কন্ট্রোলার ফের পাইলটকে হুঁশিয়ার করে চিৎকার করেন, ‘ঘোরাও’। পাইলট যখন অবতরণের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ‘ঘোরানো’র নির্দেশনা-ই বিপদের কারণ বলে মনে হয়েছে বিশ্লেষকদের কাছে।

প্রথমে ছড়িয়ে পড়া অডিওবার্তা শোনার পর নেপালি টাইমসই বলেছিল, নিয়ন্ত্রণকক্ষ হলেও পাইলটের সঙ্গে কথোপকথনে এটিসির কোনো নিয়ন্ত্রণই ছিল না। বরং আশপাশে উঁচু উঁচু পাহাড় থাকলেও একবার রানওয়ে ২০-এর (উত্তর প্রান্ত) দিকে যেতে বারণ করে খানিকবাদে আবার তাকে রানওয়ে পছন্দের জন্য জিজ্ঞেস করা (রানওয়ে ০২-দক্ষিণ প্রান্ত, বা রানওয়ে ২০-উত্তর প্রান্ত), শেষে আবার রানওয়ে ২০ নির্ধারণ করেও রানওয়ে ০২ এ নামার অনুমতি দেওয়া এবং আরেকটি প্লেনের ককপিটের সঙ্গে আলাপে বিএস২১১ এর জন্য রানওয়ে ২০ চূড়ান্ত বলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে ‘ঘোরানো’র নির্দেশ দেওয়া বিপদে ফেলে দেওয়ারই শামিল।

নতুন প্রতিবেদনে নেপালি টাইমস বলছে, এখন পর্যন্ত যতটুকু বোঝা গেছে, এটা ত্রিভুবন বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ও অনিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে আনছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও মাথা ঘামাচ্ছে। বিমানবন্দরটির তুলনামূলক ছোট রানওয়ে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে নতুন ভাবনায় বাধ্য করছে। চিন্তা করতে হচ্ছে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনশক্তির দক্ষতা নিয়েও। যদিও এতোবড় দুর্ঘটনার আগে, এতোগুলো প্রাণ ঝরার আগে এ বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা ও পরিসর নিয়ে কারো তেমন মাথাব্যথা ছিল না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির নামকরণ হয়েছে পৌরাণিক লোককথা অনুযায়ী তিন লোক ‘স্বর্গ, মর্ত্য ও নরক’ বা ‘ত্রিভুবন’ এর নামে। কিন্তু বিগত ৩৬ বছরে ৭০টিরও বেশি দুর্ঘটনা বিমানবন্দরটিকে পরিণত করেছে ‘মর্ত্যের নরকে’।

ভিডিও...



মন্তব্য