kalerkantho


রাত হলেই স্কুটি নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন এবং তারপর ...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৮ ১০:৩৮



রাত হলেই স্কুটি নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন এবং তারপর ...

একটু রাত হলেই রাস্তায় স্কুটি নিয়ে ঘুরে ঘুরে বেড়ান তিনি। কোথাও কুকুর বা বিড়াল দেখলেই তাদের খাওয়ানোর জন্য দাঁড়িয়ে পড়েন। ওদের খাওয়া হয়ে গেলেই ফের অভুক্ত কুকুর-বিড়ালদের খোঁজে অন্য রাস্তা ধরেন। তিনি মিতালি দাস। বাড়ি  ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ব্যারাকপুরে।

প্রতিদিন রাতে শতাধিক কুকুরকে নিজের হাতে খাওয়ানোটা তাঁর অবশ্যকর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। কীভাবে শুরু হল এই ভাবনার? মিতালি বললেন, ‘‘বারো-তেরো বছর আগে এক শীতের রাতে বাড়ির সামনের রাস্তায় একটা কুকুরকে ধাক্কা মারে একটি গাড়ি। যন্ত্রণায় ছটফট করছিল কুকুরটি। ওকে নিয়ে সেদিন পশু হাসপাতালে গিয়েও শেষরক্ষা করতে পারিনি। সেই থেকেই শুরু এই সফর।’’

তবে শুধু খাওয়ানই না, রাস্তার আহত কুকুরদের নিজের খরচে চিকিৎসাও করান দাসপাড়ার মিতালি। নিজের এলাকার কুকুর-বিড়ালকে খাওয়ানোর জন্য সকালে ভাত-মাংস রান্না করেন তিনি। এসব খরচের অর্থ আসে কোথা থেকে? তিনি জানালেন, একটি মোটর ট্রেনিং সেন্টারে গাড়ি চালানো শিখিয়ে এবং পাড়ার জিমে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রায় ১২ হাজার টাকা মাসিক আয় হয়। কুকুর-বিড়ালদের চিকিৎসাতেই চলে যায় অনেক টাকা। রোজ রাতে কী করে রাস্তার কুকুরদের মাছ-মাংস-বিরিয়ানির ভোজ দেন? মিতালি। বললেন, ‘‘প্রথমদিকে আমার মাথাতেও এই প্রশ্ন উঠেছিল।’’ কয়েকটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে তাঁদের রোজকার ফেলে দেওয়া খাওয়ার আমাকে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। কয়েকটি রেস্তোঁরা আমার অনুরোধে সাড়া দেয়। রোজ রাতে ওই রেস্তোরাঁগুলি থেকে অতিরিক্ত খাবার সরবরাহ করে কুকুরদের খাওয়াই।’’

পুলিশ বা প্রশাসন কোনও সাহায্য করে কিনা জানতে চাইলে মিতালি একটু অভিযোগের সুরেই বলেন, ‘‘কাউন্সিলর কোনও সাহায্য করেন না। তবে ব্যারাকপুর পুলিশ আমাকে মাঝেমধ্যেই ওষুধপত্র দিয়ে সাহায্য করে।’’ 

ব্যারাকপুর থানার এএসআই সুমনা ভৌমিক বলেন, ‘‘পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণে গিয়ে মিতালির সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় আমার। ও যে শুধু কুকুর-বিড়ালকে খাওয়াচ্ছে তা নয়, ও রাস্তা থেকে আহত কুকুরদের তুলে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসাও করায়। ও আমার বন্ধু বলে খুব গর্ব হয়!’’

ইন্টারনেট থেকে


মন্তব্য