kalerkantho


মার্কিন আদালতে নির্বাচনে রুশ সংযোগ সংক্রান্ত এফবিআই’র অভিযোগপত্র

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০৫:১৩



মার্কিন আদালতে নির্বাচনে রুশ সংযোগ সংক্রান্ত এফবিআই’র অভিযোগপত্র

যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে রুশ সংযোগ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে ও বিপক্ষে বিক্ষোভ করানো ও বিক্ষোভকারীদের অর্থ প্রদান ও নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে রাশিয়া ব্যাপক প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন এফবিআই।

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারাভিযান দল ও রাশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য আঁতাতসহ অন্যান্য অপরাধ তদন্তে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক রবার্ট মুলার শুক্রবার এ অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ১৩ রুশ নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ করা হয় রাশিয়ার তিনটি কোম্পানির বিরুদ্ধেও।

বিস্তারিত অভিযোগে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রের ‘বীজ বপন করা হয়েছে’। আর জন্য কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।

উস্কানি
রাশিয়ার সেন্টস পিটার্সবার্গভিত্তিক ইন্টারনেট গবেষণা সংস্থা এলএলসি ২০১৪ সালে এই তৎপরতা শুরু করে। সংস্থাটিতে অর্থায়ন করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ ইয়েভগেনয়ি ভিকতোরোভিচ প্রিগোঝিন। রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংস্থাটির যোগাযোগ রয়েছে বলে মনে করা হয়।
এলএলসি ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে। এজন্য তারা ভুয়া মার্কিন অ্যাকাউন্ট খুলেছে। এসব অ্যাকাউন্টে উগ্রজাতীয়তাবাদীদের সমর্থনের মধ্যদিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ানোর জন্যই তারা এটা করেছে।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দলের প্রাইমারির সময় থেকে সংস্থাটি ট্রাম্পের পক্ষে ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে কাজ করে গেছে। এজন্য তারা অনেক অর্থও ব্যয় করেছে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই ১২ লাখ ডলারের বেশি খরচ করে সংস্থাটি।

ভুয়া অ্যাকাউন্ট
এলএলসি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বিভিন্ন পেজ খুলে অভিবাসন, বর্ণবাদী সম্পর্ক ও ধর্ম বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করতে থাকে। এসব পেজের মধ্যে সিকিউরড বর্ডার, ব্ল্যাকটিভিস্ট, ইউনাইটেড মুসলিম অব আমেরিকা ও আর্মি অব জিসাস অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটি টুইটারেও অনেক ভুয়া অ্যাকাউন্ট চালু করে যাতে মনে হয় এগুলো মার্কিনীরাই পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচনি জালিয়াতি ও নর্থ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনের সময় মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে। তারা নির্বাচন সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রচারণা চালায়। এর মধ্যে হ্যাশট্যাগ ট্রাম্প ২০১৬ ও হ্যাশট্যাগ হিলারি ফর প্রিজন কর্মসূচি চালু করে প্রচারাভিযান চালায়।

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুসারে বিদেশিদের জন্য রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন কেনা অবৈধ। তবে এলএলসি ও তার কর্মীরা রাশিয়ার পরিচয় গোপন করে ‘বিজ্ঞাপন তৈরি, সংগ্রহ ও তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইনে পোস্ট করা’ শুরু করে। এসব বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পে পক্ষে ও হিলারি ক্লিনটনের বিপক্ষে প্রচার চালানো হয়। এসব বিজ্ঞাপনের অর্থ পরিশোধের জন্য তারা ভুয়া পরিচয়ে মার্কিন ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খোলে। তাছাড়া তার পে-পালও ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফ্লোরিডার মতো দোদ্যুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোর একটিতে ট্রাম্প জয়লাভ করেছেন। সেখানে বিশেষভাবে প্রচারণা চালিয়েছে এলএলসি। তারা আগেই প্রচার চালায় ফ্লোরিডায় ট্রাম্প জিততে চলেছেন।

ফ্লোরিডায় একটি মিছিলে ট্রাম্পের স্থানীয় সমর্থক এক নারীকে হিলারি ক্লিনটন সাজিয়ে কয়েদির পোশাক পরানো হয়। তার জন্য ওই নারীকে অর্থ প্রদান করার অভিযোগ আনা হয়েছে রুশ নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। ওই নারী নিউ ইয়র্কের একটি মিছিলেও একই বেশে হাজির হয়েছিলেন।
ভুয়া মার্কিন নাগরিকদের মাধ্যমে মিছিলটিগুলো আয়োজন করা হয়েছিল। এমনকি নির্বাচনের পরও নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের পক্ষে-বিক্ষোভে মিছিলের সময় ভুয়া মার্কিনীদের ব্যবহার করা হয়েছি।

ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের সঙ্গে যোগসাজশ
অভিযোগপত্রে অনেক অভিযোগ আনা হলেও ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার যোগসূত্র সম্পর্কে অভিযোগ আনা হয়নি। এতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা ভুয়া মার্কিন পরিচয় ব্যবহার করে ট্রাম্পের প্রচারণা দলের সঙ্গে অনিচ্ছাকৃতভাবে যোগাযোগ করেছিল।

অভিযোগপত্র দালিখের পর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। তার প্রচারণা শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার কোনো কোনো আঁতাত ছিল না। টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচলে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার অনেক আগে, ২০১৪ সাল থেকে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তবে নির্বাচনের ফলাফলে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। ট্রাম্পের প্রচার টিম কোনো অন্যায় করেনি। কোনো আঁতাত করেনি!’

ফলাফল
এতকিছুর পরও যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোড রোসেনস্টেইন সাংবাদিকদের বলেছেন, এসব প্রোপাগান্ডা নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করেছে বলে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। এই নির্বাচনে জিতে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।



মন্তব্য