kalerkantho


তিন বছর ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ইথিওপিয়ায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৬:৫৬



তিন বছর ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ইথিওপিয়ায়

টানা তিন বছর ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হাইলেমারিয়াম দেসালেনের আকস্মিক পদত্যাগের একদিনের মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হল ইথিওপিয়ায়। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ থামাতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমে জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

তিন বছর ধরে চলা বিক্ষোভে কয়েকশ লোক মারা গিয়েছে। শুক্রবার থেকে জারি হওয়া নতুন এই জরুরি অবস্থার মেয়াদ কতদিন বিবৃতিতে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। নাগরিকদের কি কি অধিকার বাতিল করা হয়েছে, তাও বিবৃতিতে জানানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে চলা বিক্ষোভ থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকারের ওপর চাপ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে।

সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভ ২০১৫ সালের নভেম্বরে ওরোমিয়া অঞ্চলে প্রথম শুরু হয়; কিছুদিন পর আমাহারা অঞ্চলও তাতে যোগ দেয়। এ এলাকা দুটিতেই ইথিওপিয়ার বৃহৎ দুই জাতিগোষ্ঠীর বাস। ১৯৯১ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকা বর্তমান সরকারের নেওয়া নানান পদক্ষেপে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে জাতিগোষ্ঠী দুটির সদস্যরা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এ বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ২০৪০ সালের মধ্যেই বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বিশ্ব তাপমাত্রা

ইথিওপিয়ার জাতীয় সংবাদমাধ্যম ইবিসি জানায়, শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর জরুরি অবস্থার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আদ্দিস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, বৈঠকে জরুরি অবস্থার মেয়াদ ৩ মাস বা ৬ মাস করার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।

ইথিওপিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে টানা ১০ মাস জরুরি অবস্থা জারি থাকার পর গত বছরের জুলাই মাসে তা প্রত্যাহার করা হয়। ইথিওপিয়ায় বৃহত্তর রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধের দাবিতে ২০১৫ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছে দেশটির ওরোমো ও আমহারা জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা। তারাই দেশটির মোট জনসংখ্যার ৬১ শতাংশ।

আরও পড়ুন: সেই বিকৃত পুরুষকে ধরতে পুলিশের পুরস্কার ঘোষণা

মানবাধিকার কর্মী ও ওরোমিয়া মিডিয়া নেটওয়ার্কের প্রধান জাওয়ার মোহাম্মেদ এই জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে অপ্রয়োজনীয় ও অপরিণামদর্শী বলে অভিহিত করেছেন। ইথিওপিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক পর্যবেক্ষক ফিলিক্স হরনে জানান, গত জরুরি অবস্থার সময় ২০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। টুইট করে তিনি এই অবস্থার প্রতিবাদ করেছেন।

২০১২ সাল থেকে ইথিওপিয়ার ক্ষমতায় থাকা হাইলে মারিয়াম বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন জোট ইথিওপিয়ান পিপলস রেভ্যুলিউশনারি ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইপিআরডিএফ) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করেন। কারণ হিসেবে তিনি দেশের অস্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক সংকটকে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: 'সু চিকে বিচারের মুখোমুখি করা যেতে পারে'

তবে ইপিআরডিএফ ও দেশটির পার্লামেন্ট পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নতুন কাউকে স্থলাভিষিক্ত না করা পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গিয়েছে। ক্ষমতাসীন জোট ইপিআরডিএফ ও তার নিজের দল সাউদার্ন ইথিওপিয়ান পিপলস ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে ইতোমধ্যে মেনে নিয়েছে।


মন্তব্য