kalerkantho


আইএস'র নৃশংস 'বিটলস' গ্যাংয়ের শেষ ২ সদস্য আটক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৫:০৯



আইএস'র নৃশংস 'বিটলস' গ্যাংয়ের শেষ ২ সদস্য আটক

বামে আলেজান্দ্রা কোটে (৩৪) এবং ডানে এল শাফি এলশেখ (২৯)

দুই ব্রিটিশকে ধরেছে সিরিয়ার কুর্দি সেনারা। এই দুই ব্রিটিশ ব্যক্তি জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট এর সদস্য। মার্কিন কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানায়। 

বলা হচ্ছে, আলেজান্দ্রা কোটে (৩৪) এবং এল শাফি এলশেখ (২৯) নামের দুই তরুণ মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ানো আইএস এর এক্সিকিউশন সেলের শেষ দুই সদস্য। তারা মোট চারজন ছিলেন। তাদের বলা হতো 'দ্য বিটলস'। ব্রিটিশ দেখে আইএস-এ তাদের সবাই বিখ্যাত ব্যান্ডের নামে নাম দিয়েছিল। 

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ছিলেন আইএস এর এক্সিকিউশন সেলের সদস্য। এই সেল কমপক্ষে ২৭ জন পশ্চিমা বন্দির শিরশ্ছেদ করেছে। নৃশংস অত্যাচার করেছে অসংখ্য বন্দিকে। 

আরো পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছেছেন কিমের বোন

আইএস 'বিটলস' কারা? 
জঙ্গি গোষ্ঠীতে মোট ৪ জন 'বিটলস' ছিলেন। তারা হলেন- 

১. মোহাম্মেদ এমওআজি। ধারণা করা হয় তিনি ছিলেন জিহাদি জন। বেশ কয়েকজন পশ্চিমার শিরশ্ছেদ ঘটেছে তার হাতে। পশ্চিম লন্ডনের এই বিটলস ২০১৫ সালে সিরিয়ার আইএস এর সাবেক রাজধানী রাক্কায় ড্রোন হামলায় নিহত হন। 

২. অ্যাইনে ডেভিসও এসেছিলেন লন্ডনের পশ্চিম থেকে। আইএস এর সিনিয়র সদস্য হিসেবে পরিচিত। গত বছর তুরস্কে জেল হয় তার। 

৩. কোটে এসেছেন লন্ডন তেকে। তিনি বন্দিদের অত্যাচারের কাজে মনোযোগ দিতেন। আইএস সদস্য সংগ্রহের কাজও করতেন। 

৪. এল শাফি এলশেখের আগে থেকেই নাম কামিয়েছিল ওয়াটারবোর্ডিংয়ে দক্ষতা দেখিয়ে। অত্যাচার আর ক্রুসিফিকেশনের মাধ্যমে নিষ্ঠুরভাবে বন্দিদের হত্যা করতেন তিনি। 

এই দলের লিডার এমওয়াজি। ২০১৫ সালে বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। তিনি আইএস এর বিভিন্ন বর্বর ভিডিওতে মুখোশ পরে উপস্থিত হতেন। 

সম্প্রতি সময়ে তাদের আটকের কথা জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তারা মিডিয়ার বরাত দিয়ে জানায়, এই দুই সদস্যকে আটক করে মার্কিন মদদপুষ্ট সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস। ধ্বংসের পথে থাকা আইএস এর শেষ সদস্যগুলোকে খুঁজে বের করছে তারা। 

এদের আটকের বিস্তারিত এবং জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে কথা বলতে রাজি নন ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

তবে তাদের গ্রেপ্তারের খবর প্রথম দেয় নিউ ইয়র্ক টাইমস। সেখানে বলা হয়, মার্কিন কর্তৃপক্ষ কাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি গোপন রাখতে চায়। উদ্দেশ্য ছিল, তথ্য ছড়ানোর আগেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্যদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। 

আরো পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় আইএস জঙ্গিরা আফগানিস্তানে যাচ্ছে : রাশিয়া

গত বছর থেকে সিরিয়ায় আইএস নামের এই ভয়ংকর ও শক্তিশালী জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে। গত বছরের অক্টোবরে তারা নিজেদের রাজধানী রাক্কার নিয়ন্ত্রণ হারায়। নভেম্বরের শুরুতে দেইর-আল জোর এর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তাদের হাত থেকে। একই দিন ইরাকের আল-কাইম হাতছাড়া হয়। এখন তাদের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। 
সূত্র : বিবিসি 


মন্তব্য