kalerkantho


এই প্রথম কিম পরিবারের কোনো সদস্য দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৭:১৯



এই প্রথম কিম পরিবারের কোনো সদস্য দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের খুব ঘনিষ্ঠ ছোটবোন দিন দিন আরো প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন। উত্তর কোরিয়ার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্র প্রধান কিম ইয়ং নামের সফরসঙ্গী হচ্ছে কিম ইয়ো জং। কিম ইয়ো জং ও কিম জং উন একই মায়ের সন্তান। কিম ইয়ো জং ১৯৮৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। কিম ইয়ো জং উত্তর কোরিয়ার সাবেক প্রয়াত নেতা কিম জং ইলের কন্যা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের আপন বোন। কিমের চেয়ে চার বছরের ছোট তার বোন এবং খুব ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। ২০১৭ সালে ইয়ো জং ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান। এই প্রথম কিম পরিবারের কোনো সদস্য দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছেন।

জানা যায়- কিম জং ইল এর সাত সন্তানের মধ্যে ইয়ো জং কনিষ্ঠ এবং জং উনের ছোট বোন। কিম ইয়ো জং এর পড়ালেখার শুরু বাড়িতে থেকে। পরে ভাই জং উনের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নের কাছে একটি স্কুলে পড়ালেখা করেছেন। এরপর উত্তর কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন তিনি। এর অল্প কিছুদিন পর পশ্চিম ইউরোপে গিয়ে কয়েকটি কোর্স করেন। কিম ইয়ো জংকে প্রথম দেখা যায় ২০১০ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির তৃতীয় সম্মেলনে। সেখানে তাঁকে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। ২০১২ সালে জাতীয় প্রতিরক্ষা কমিশনের অধীনে কিম জং উনের সফরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় খালেদা জিয়ার রায়

২০১৪ সালের অক্টোবরে কিম জং উনের চিকিৎসা চলাকালীন রাষ্ট্রক্ষমতা তাঁর হাতে ছিল বলে জানা যায়। একই বছরের নভেম্বরে ইয়ো জংকে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রচারণা ও আন্দোলন বিভাগের উপ-পরিচালক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৮ বছর বয়সি ইয়োকে উত্তর কোরিয়ার আরও কয়েকজন কর্মকর্তাসহ কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

৯ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতকালীন অলিম্পিকের আসর দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত হবে। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন এই আসরে নেতৃত্ব দেবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার মন্ত্রীদের বরাত দিয়ে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ পরিষদের বিকল্প এই সদস্যের অংশগ্রহণের খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি। শুক্রবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।

আরও পড়ুন: জার্মানির রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটছে

উত্তর কোরিয়ার প্রয়াত নেতা কিম জং ইলের ছোট মেয়ে কিম ইয়ো জংকে গেলো বছর পলিটব্যুরো হিসেবে পদোন্নতি দেয়ায় তিনি দেশটিতে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। অলিম্পিকের অনুষ্ঠানে একই পতাকা তলে মার্চ করতে দেখা যাবে দুই কোরিয়াকে।

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে দুই কোরিয়ার মধ্যে বরফ গলতে শুরু করলে পিয়ংইয়ং অলিম্পিকে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়া অলিম্পিকে অংশ নিলেও পিয়ংইয়ং পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের যে অভিলাষ তাতে খুব একটা ভাটা পড়বে না।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপের বন্ধু দেশের তালিকায় নেই ভারত

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে উত্তর কোরিয়া অলিম্পিকে যোগ দিয়ে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। আর এজন্যই পিয়ংইয়ংকে টক্কর দিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন। মাইক পেন্স বলেন, উত্তর কোরিয়া যাতে শীতকালীন অলিম্পিককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সত্য আড়াল করতে না পারে আমরা সেটিই নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।

অলিম্পিকের উদ্বোধনী দিনে একই পতাকার নিচে দুই কোরিয়া মার্চে অংশ নেবে। অলিম্পিক গেমসে উত্তর কোরিয়ার অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলবে বলে আশা করা হচ্ছে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং অন্য দেশগুলোর মনে করছে, উত্তর কোরিয়ার প্রোপাগান্ডার হাতিয়ার হিসেবে অলিম্পিক গেমসকে ব্যবহার করছে।



মন্তব্য