kalerkantho


রমরমা ব্যবসার জন্যই কি মডারেট ইসলাম চান সালমান?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৬:১৬



রমরমা ব্যবসার জন্যই কি মডারেট ইসলাম চান সালমান?

২০১৭ সালের অক্টোবরে হলিউডের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান। এছাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। সে সময় শোনা যায়, বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিতে চান ক্রাউন প্রিন্স।

শিকাগোর মেয়র এমানুয়েলের ভাই আরি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার খুব কাছের বলে শোনা যায়। তিনি মুহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ সম্পর্কে বলেন, বিনোদন এবং সংস্কৃতির দিক থেকে সৌদির অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এই সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের নাগরিকরা হয়তো সরাসরি চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে গানও শুনতে পারবেন। খাবার নিয়ে অনুষ্ঠান, ফ্যাশন এবং শিল্পকলাও দেখতে পারবেন টেলিভিশনে। তবে সেই সব কর্মকান্ডের সঙ্গে তার কোম্পানিও জড়িত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে গত কয়েক দশক ধরে প্রায় সব ধরনের বিনোদনের মাধ্যম থেকে বঞ্চিত সৌদি আরবের নাগরিকরা। সম্প্রতি সেসব দিক থেকে সরে আসছে সৌদি।

আরো পড়ুন : জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি চান আব্বাস

আগে চলচ্চিত্র, নাটক কিংবা কনসার্ট নিষিদ্ধ থাকলেও মুহাম্মদ বিন সালমান মধ্যপন্থী ইসলামের কথা বলে সেই আদর্শ থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন।

ইতোমধ্যেই শিশুতোষ কার্টুন চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে দেশটিতে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ইতিহাস শুরু হয়ে গেছে। সেই প্রদর্শনীতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরবের ৭০ শতাংশ নাগরিকের বয়স ৩০ বছরের কম। বিশাল সংখ্যক এই জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করেই ভিশন ২০৩০ নীতিমালা ঠিক করা হয়েছে।

ভিশন ২০৩০ এ বলা হয়েছে, আমাদের দেশের নাগরিক এবং বসবাসরতদের চাহিদা উপেক্ষা করে সংস্কৃতি এবং বিনোদনের মাধ্যম হতে তাদের বঞ্চিত রাখা যায় না।

এদিকে মুহাম্মদ বিন সালমানও নিজেকে সংস্কৃতি এবং বিনোদন ক্ষেত্রে বিপ্লবের নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেন। বিনোদন খাতে ২২ হাজার জনের চাকরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তার প্রত্যাশা, সংস্কৃতি এবং বিনোদন খাতে উদারতা দেখানোর ফলে প্রতি বছর ৫০ মিলিয়নের বেশি পর্যটক সৌদিতে যাবেন। সে কারণে পর্যটন কেন্দ্র তৈরির দিকেও নজর দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি সৌদি আরবের তথ্য মন্ত্রী সে দেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বৈঠক করেছেন। দেশটিতে গণমাধ্যমের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা হয় ওই বৈঠকে।

এছাড়া ২০১৭ সালের শেষের দিকে সৌদি আরবের বেশ কিছু ব্যবসায়ীকে দুর্নীতির অভিযোগে আটক করা হয়। পরে অভিযোগ ওঠে, বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের একজন কর্মকর্তা আলজাজিরাকে বলেন, দেশটির বেশিরভাগ মানুষ জানেন যে, বেছে বেছে কিছু মানুষকে আটক করা হয়েছিল। যাদের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ আছে, আটক হওয়ার পর যারা অর্থের বিনিময়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে পারবেন, তাদেরকেই আটক করা হয়েছিল।

আরো পড়ুন : কাতারিদের নির্যাতনের অভিযোগে তদন্তাধীন আমিরাতের কর্মকর্তারা

বিল ল নামের একজন আলজাজিরায় মুহাম্মদ বিন সালমানের কর্মকান্ড নিয়ে মতামত লেখেন। সেখানে তিনি বলেন, গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে মাঠে গিয়ে খেলা দেখা কিংবা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার অনুমতি দিয়েছে সৌদি আরব। যার প্রত্যেকটির সঙ্গে ব্যবসার সম্পর্ক রয়েছে।

আলজাজিরা অবলম্বনে কাওসার বকুল


মন্তব্য