kalerkantho


আগামী বছরেই জেরুজালেমে স্থাপন হবে মার্কিন দূতাবাস : পেন্স

সাবেদ সাথী, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০১:০০



আগামী বছরেই জেরুজালেমে স্থাপন হবে মার্কিন দূতাবাস : পেন্স

ছবি: কালের কণ্ঠ

যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ স্থানান্তর করা হবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সোমবার ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে দেওয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন।

গত বছর ৬ ডিসেম্বর বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এই নিয়ে বিশ্বজুড়ে তুমুল নিন্দা ও প্রতিবাদ জারি রয়েছে। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর অনুমিত সময়ের চেয়ে আগেই দূতাবাস স্থানান্তরের কথা জানালেন ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স।

পেন্স বলেন, ‘সামনের সপ্তাহে আমাদের প্রশাসন জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস খোলার পরিকল্পনা শুরু করবে। আগামী বছর শেষ হওয়ার আগেই সেখানে মার্কিন দূতাবাস খোলা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী। আর সেজন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিতে পররাষ্ট্র দফতরকে দ্রুত প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।’

তবে ইসরায়েলি আরব সংসদ সদস্যদের প্রতিবাদের মুখে অল্প সময়ের জন্য পেন্সের বক্তব্য বাধাগ্রস্ত হয়। প্রতিবাদকারীরা আরবি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। তাতে লেখা ছিল, ‘জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী’। পরে আন্দোলনকারীদের বের করে দেওয়া হয়।

পেন্স গোলযোগে সাড়া দিয়ে হাসিমুখে বলেন, ‘এমন অস্থির গণতন্ত্রের সামনে দাঁড়ানো আমার জন্য খুবই অপমানজনক’।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে রয়েছে জেরুজালেম ইস্যু। ইসরায়েল জেরুজালেমকে তাদের চিরন্তন ও অবিভক্ত রাজধানী মনে করে। আর ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে। ১৯৬৭ সালে যুদ্ধের সময় জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৯৩ সালের চুক্তি অনুসারে দুই দেশ শান্তি আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তীতে শহরটির মর্যাদা নির্ধারণ করার কথা রয়েছে। তবে ১৯৬৭ সালে দখলের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ২ লাখ ইহুদির জন্য বসতি স্থাপন করেছে। এটাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে বিবেচনা করা হলেও ইসরায়েল তা অব্যাহত রেখেছে।

ট্রাম্পের ওই বিতর্কিত ঘোষণার পরপরই জেরুজালেম, গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীরের রামাল্লা, হেবরন, বেথলেহেম, নাবলুস, কালকিলিয়া, তুলকার্ম ও জেনিনের রাস্তায় নেমে আসেন মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা। বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলে পড়ে ইসরায়েলি বাহিনী। হতাহত হন বহু বিক্ষোভকারী। তারপরও দমে যাননি মুক্তিকামী মানুষেরা। প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন তারা।

এ নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোট হলে মার্কিন স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১২৮টি দেশ। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় মাত্র ৯টি দেশ। ভোটদান থেকে বিরত ছিল ৩৫ দেশ। ওইদিন জাতিসংঘে মার্কিন স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাবের পক্ষে বাংলাদেশও ভোট প্রদান করেছিলেন।



মন্তব্য