kalerkantho


নেতানিয়াহুর অস্ত্রের আড়ালে ঢেকে গেছে গান্ধীর অহিংসা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ১২:৪৭



নেতানিয়াহুর অস্ত্রের আড়ালে ঢেকে গেছে গান্ধীর অহিংসা!

১৯৩১ সালের ঘটনা। সেনাবাহিনীর ব্যাপারে মহাত্মা গান্ধীর কাছে জানতে চান এক সাংবাদিক। গান্ধী ওই সাংবাদিককে জানান, ভবিষ্যতে ভারতের সেনাবাহিনী হবে স্বল্প সংখ্যক। যেটা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।

তবে ভারতের সেনা সংখ্যা এখন পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সেনাবাহিনীর জন্য প্রতি বছর ৫৬ বিলিয়ন ডলার খরচ করে দেশটি। সেনাবাহিনীর পেছনে খরচের দিকে ভারতের অবস্থান পঞ্চম। এদিকে সবচেয়ে বেশি খরচ করে যুক্তরাষ্ট্র। তারপরেই রয়েছে চীন, রাশিয়া এবং সৌদি আরব।

গান্ধী ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে ১৯৩৮ সালে বলেছিলেন, ফিলিস্তিন আরবদের জন্য ... সেখানে ইহুদিদের আরবদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা ভুল এবং অমানবিক। তিনি নিজেও ঔপনিবেশ বিরোধী সংগ্রামে জড়িত ছিলেন। সে আদর্শ লালন করে ফিলিস্তিনিদের পক্ষ নিয়ে বরাবরই কথা বলেছেন।

আরো পড়ুন : ভুয়া সংবাদ ঠেকাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে ফেসবুক

তবে সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু ছয় দিনের সফরে ভারতে যাওয়ার পর সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে নিয়ে গান্ধীর আশ্রম এবং সমাধিতে যান।

গান্ধীর আশ্রমে যাওয়ার পর সেখানকার দর্শণার্থীদের স্বাক্ষরের জন্য রাখা বইয়ে মন্তব্যও লেখেন নেতানিয়াহু। অথচ নেতানিয়াহু ভারত সফরে আসার অন্যতম কারণ, ব্যবসা, অস্ত্র চুক্তি এবং বলিউড তারকাদের নিজ দেশে চলচ্চিত্রের দৃশ্যধারণের আমন্ত্রণ জানানো।

ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে ১৯৪৬ সালেই গান্ধী পরিষ্কারভাবে মত প্রকাশ করেছেন, ইহুদিদের কেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থের ওপর নির্ভর করে কিংবা যুক্তরাজ্যের অস্ত্র নিয়ে ভিন্ন একটি রাষ্ট্রে জোর-জবরদস্তি চালাতে হবে? ফিলিস্তিনিদের ওপর কেন জোর-জবরদস্তি করা হচ্ছে সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরায়েলের আচরণকে ব্রিটিশদের উপনিবেশের সঙ্গেও তুলনা করেন গান্ধী।

অথচ সেই ইসরায়েলের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র কেনে ভারত। ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের অস্ত্রের ৪১ শতাংশ কিনেছে দেশটি।

২০১৭ সালের এপ্রিলে ইসরায়েলের কাছ থেকে দুই বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কেনার ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষর করে ভারত। তবে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসরায়েলের কাছ থেকে তার মধ্যে পাঁচশ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি বহাল রাখতে চায় না।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরায় এ ব্যাপারে একটি মন্তব্য প্রতিবেদন লেখেন লেফ্টওয়ার্ড বুকসের প্রধান সম্পাদক বিজয় প্রসাদ। তিনি বলেন, ছয় দিনের সফরে বিষয়টি নিয়ে মোদির সঙ্গে আলোচনা করেছেন নেতানিয়াহু। এ ব্যাপারে নেতানিয়াহুকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করেছেন মোদি।

তিনি আরো বলেন, ভারত এবং ইসরায়েলের সম্পর্কের প্রাণ হলো অস্ত্র। কিন্তু বেশিরভাগ গণমাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে নেতানিয়াহুর পরিদর্শনের খবর, প্রযুক্তি কেন্দ্রের উদ্বোধন এবং বলিউড তারকাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের খবর উঠে এসেছে।

আরো পড়ুন : ইসরায়েলের কারাগারে বিনা চিকিৎসায় ফিলিস্তিনির মৃত্যু

তার বিপরীতে সে দেশে নেতানিয়াহুর সফরের বিরোধিতা করে চলা বিক্ষোভ কিংবা অস্ত্র চুক্তির ব্যাপারে হওয়া আলোচনা উঠে আসেনি। ভারতের মানুষের যে সমর্থন ফিলিস্তিনিদের ব্যাপারে রয়েছে, সেটাও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে সে দেশের বেশিরভাগ গণমাধ্যমে।

আলজাজিরা অবলম্বনে কাওসার বকুল



মন্তব্য