kalerkantho


আত্মহত্যার অনুমতি চেয়েছে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ২১:২৯



আত্মহত্যার অনুমতি চেয়েছে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নয়মাসের অন্ত:সত্ত্বা এক অবিবাহিতা কিশোরী স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছে প্রশাসনের কাছে। গ্রামেরই এক সদ্য যুবক ওই কিশোরীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে সহবাস করে। তার ফলেই সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ ওই কিশোরীর পরিবারের।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সুতাহাটার বাসিন্দা ১৭ বছরের ওই কিশোরী প্রশাসনের কাছে পাঠানো চিঠিতে লিখেছে, "আমার আর এই সমাজে বেঁচে থাকার প্রয়োজন নেই এবং পরিবারের মান সম্মান সমাজে ধুলোয় মিশে গেছে। আমি স্ব-ইচ্ছায় মৃত্যু বরণ করতে চাই।"

কলকাতায় বিবিসির সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালী বলছেন, আত্মহত্যারই অবেদন বিবেচনার প্রশ্ন নাই কারণ ভারতে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ অবৈধ। তিনি বলেন, চরম হতাশা থেকে মেয়েটি প্রায় নজিরবিহীন এই অবেদন করেছে।

এই কটি কথা লেখার আগে ওই কিশোরী বর্ণনা দিয়েছে যে কীভাবে তার এক প্রতিবেশী - সদ্য যুবক ভালবাসার কথা বলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিল।

কিন্তু অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ার পরে প্রতিশ্রুতি মতো বিয়ে করতে অস্বীকার করে ওই যুবক। এখন তার গর্ভে প্রায় নয়মাসের সন্তান।

ওই কিশোরী টেলিফোনে বিবিসি বাংলাকে বলছিল, "ও বলত যে বিয়ে করবে। সেই কথা বলে আমার সঙ্গে বাজে কাজ করেছে। প্রথমে আমি কিছু বুঝতে পারে নি যে কী ঘটেছে। মাঝে মাঝে পেটে ব্যথা হত, মনে করতাম এমনিই ব্যথা হচ্ছে। তারপরে মা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। তখনই বোঝা যায় যে কী হয়েছে।"

ওই কিশোরীর মা বলেছেন মেয়েকে মারধর করেও প্রথমে ছেলেটির নাম-পরিচয় জানতে পারেননি। তবে নামটা জানার পরে দুই পরিবার বিয়ে দেওয়াতেও সম্মত হয়। মধ্যস্থতা করেছিলেন গ্রামেরই বয়োজ্যেষ্ঠরা।

কিন্তু বিয়ের দিনই ওই যুবক এবং তার পরিবার গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায় নভেম্বরের মাঝামাঝি।

তারপরেই থানায় প্রথমবার অভিযোগ করা হয় বলে প্রশাসনের কাছে লেখা চিঠিতে ওই কিশোরী জানিয়েছে। তখনই তার আবারও ডাক্তারি পরীক্ষা হয়।

পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনা সম্বন্ধে কিছু জানায় নি এখনও। তবে সূত্রগুলি বলছে, অভিযুক্ত যুবকের খোঁজ করছে পুলিশ এবং কয়েক দিন আগে ওই যুবকের বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের প্রশ্ন ব্যবস্থা নিতে এত দেরী করল কেন পুলিশ?

বিবিসি-র কাছ থেকেই বিষয়টি জানতে পেরে কমিশনের অন্যতম সদস্য প্রসুন ভৌমিক বলছিলেন, "কমিশনের সদস্য হিসাবে আমার যেটা প্রশ্ন যে, পুলিশ কি শিশুদের যৌন হেনস্থার হাত থেকে রক্ষার করার জন্য যে পস্কো আইন আছে, সেই অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছে? না করা হয়ে থাকলে কেন এত দেরী হল? এটা গুরুতর অবহেলা। আজ তো ওই ঘটনা যে ঘটিয়েছে, তার জেলে থাকার কথা। আর যারা তাকে পালাতে সাহায্য করেছে, তাদেরও হাজতে থাকার কথা।"

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাপতি মধুরিমা মণ্ডলও বিবিসিকে বলেন, "প্রশাসন তাদের মতো নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু ব্যবস্থা নিতে দেরী তো হয়েছেই।"

- বিবিসি বাংলা



মন্তব্য