kalerkantho


পাকিস্তানের জন্য মার্কিন অর্থ সাহায্য পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, স্থগিত রাখা হয়েছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৭:৩৯



পাকিস্তানের জন্য মার্কিন অর্থ সাহায্য পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, স্থগিত রাখা হয়েছে

ফের মার্কিন সাহায্য পেতে পারে পাকিস্তান? যুক্তরাষ্ট্রের সেনা দপ্তর পেন্টাগন সূত্রে অন্তত তেমনই ইঙ্গিত মিলছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র কলোনেল রবার্ট ম্যানিং বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন পাকিস্তানকে ফের সাহায্য করতে প্রস্তুত ট্রাম্প সরকার। তবে পাকিস্তানকে কিছু শর্ত মানতে হবে সেই সাহায্য পেতে গেলে।

কি সেই শর্ত? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানাচ্ছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে পাকিস্তানকে। এমন কিছু পদক্ষেপ যা বিশ্বের নজরে আসে। সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করতে এগিয়ে আসতে হবে পাকিস্তান সরকারকে। সেই পদক্ষেপে কোনো দ্বিচারিতা চলবে না। পেন্টাগনের অভিযোগ পাকিস্তান হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। জঙ্গিগোষ্ঠী হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা মার্কিন কংগ্রেসকে জানাতে হবে বলে দাবি তাদের।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরো জানিয়েছে, তাদের দাবি ও অভিযোগ খুব স্পষ্ট। সেই দাবি মেনে কাজ করলে পাকিস্তানকে ফের মার্কিন সাহায্য দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদের মাথাচাড়া দেওয়া বরদাস্ত করা হবেনা। পেন্টাগত জানাচ্ছে মার্কিন অর্থ সাহায্য স্থগিত রাখা হয়েছে। পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। তাই অনুদান পাওয়ার পথ এখনও খোলা রয়েছে। সেই রাস্তা পাকিস্তানকেই খুলতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও পাকিস্তানের সাথে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। ইসলামাবাদ চাইলে আলোচনার মাধ্যমে এই জটিলতা কাটানো সম্ভব বলে জানাচ্ছে পেন্টাগন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আঙ্গুল তোলার বিরোধীতা চীনের

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পাকিস্তান সরকারকে কোনো আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে ২২৫ মিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয় আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সদর দফতর পেন্টাগন। তারা আরও জানায়, এর আগে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কেনার জন্য পাকিস্তানকে যে ৭০ কোটি ডলার সাহায্য দেয়ার কথা ছিল, তাও আটকে দেওয়া হয়েছে।

কোয়ালিশন সাপোর্ট ফান্ড বা সিএফএফ-এর আওতায় পাকিস্তানকে এই ২৫৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২ হাজার ১২২ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল আমেরিকার। যে সব সহযোগী দেশ জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান চালানোর জন্য অর্থ ব্যয় করে, তাদের সাহায্য করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই তহবিল। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই পেন্টাগনের কাছ থেকে এই সাহায্য পেয়ে আসছিল এবং তারাই এই তহবিল থেকে সর্বাধিক সাহায্যপ্রাপ্ত দেশ। কিন্তু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদের ভূমিকায় বেশ কয়েক বছর ধরেই ওয়াশিংটন অসন্তুষ্ট।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের চীনা মুদ্রা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রথম আঘাত



মন্তব্য