kalerkantho


নারী বৈষম্যের প্রতিবাদে বিবিসি'র আন্তর্জাতিক সম্পাদকের পদত্যাগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৯:০৮



নারী বৈষম্যের প্রতিবাদে বিবিসি'র আন্তর্জাতিক সম্পাদকের পদত্যাগ

বিবিসি'র চীন বিষয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ক্যারি গ্রাসিয়া পদত্যাগ করেছেন।বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন বলে নিজ ব্লগে এক পোস্টে উল্লেখ করেন গ্রাসিয়া। তিনি কারণ হিসেবে পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় বেতন কম পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে গোপন ও অনৈতিক বেতন কাঠামো রয়েছে।

ব্লগে ক্যারি লিখেছেন, বছরে দেড় লাখ পাউন্ডের বেশি বেতন পাওয়া কর্মীদের তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর বিবিসি এখন আস্থার সংকটে ভুগছে। 

ক্যারি জানান, গত সপ্তাহে তিনি বিবিসি চীনের সম্পাদক পদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। তবে তিনি এখনো বিবিসির সঙ্গে আছেন। টিভির নিউজরুমে তিনি তাঁর আগের পদে ফিরে যেতে পারেন। সেখানে তাঁর বেতন-সমতা থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে, আজ সোমবার বিবিসি দাবি করেছে, এই ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনায় নারীর প্রতি কোনো বৈষম্য দেখানো হয়নি। 

গ্রাসিয়া বলেন, আমি মনে করি, যে বিষয়টি সমতা আইন লঙ্ঘন করছে এবং স্বচ্ছ বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করছে তা জানার অধিকার আছে। বছরে দেড় লাখ পাউন্ডের বেশি বেতন পান এমন কর্মীদের তথ্য প্রকাশ করতে গত জুলাই মাসে বাধ্য হয় বিবিসি।

তিনি বলেন, সমতা আইন ২০১০ অনুসারে, সমান কাজের জন্য নারী-পুরুষ সমপরিমাণ অর্থ পাবেন। আমি অনেক ভালো বেতন পাই। এরপরও আমি চাই, বিবিসি আইন মেনে চলুক এবং নারী-পুরুষের সমতার বিষয়টিকে মূল্যায়ন করুক। 

গ্রাসিয়া জানান, ওই তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি দেখতে পান, আন্তর্জাতিক চার সম্পাদকের মধ্যে দুজন পুরুষ সম্পাদক দুজন নারী সম্পাদকের চেয়ে ৫০ শতাংশের বেশি বেতন পান। বিবিসি যুক্তরাষ্ট্র সম্পাদক জন সোপেলের বেতন বছরে দুই থেকে আড়াই লাখ পাউন্ড।

অন্যদিকে, বিবিসি মধ্যপ্রাচ্য সম্পাদক জেরেমি বোয়েনের বেতন দেড় থেকে দুই লাখ পাউন্ডের মধ্যে। প্রকাশিত এই তালিকায় ক্যারি গ্রাসিয়ার নাম নেই। এর মানে দাঁড়ায়, তিনি দেড় লাখ পাউন্ডের চেয়ে কম বেতন পান।

এদিকে, এক বিবৃতিতে বিবিসি জানায়, ন্যায্য বেতন নারী-পুরুষের বেতনের ক্ষেত্রে বিবিসি অন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক ভালো করছে। এই ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনায় নারীর প্রতি বৈষম্য দেখানো হয়নি।

তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, বিবিসি                  



মন্তব্য