kalerkantho


বৃদ্ধা মায়ের চোখের সামনে ক্ষুধায় মারা গেলো পুত্র

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৩:২৭



বৃদ্ধা মায়ের চোখের সামনে ক্ষুধায় মারা গেলো পুত্র

কান্না ছাড়া এই অশীতিপর বৃদ্ধা মায়ের আর কি-ই বা করার ছিল?

ভারতের উত্তর প্রদেশ সরকার ঘোষণা দিয়েছিল যে, সেখানে ক্ষুধায় কারও মৃত্যু ঘটলে উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে গ্রাম প্রধান কিংবা সেক্রেটারিকে পর্যন্ত এর দায়ভার বহন করতে হবে। এর কয়েকদিন বাদেই সেখানে ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে খাবারের অভাবে। কুদারিয়য়া ইখলাসপুর গ্রামে নিম চাঁদের মৃত্যুর ঘটনা প্রদেশ সরকারের ব্যর্থতাকেই প্রকাশ করে। 

প্রাথমিক তদন্তের পর জানা গেছে, মৃতের প্রতিবেশীরা জানান, নিম চাঁদ ছিলেন বিকলাঙ্গ। তার স্বাস্থ্য এমনিতেও ভালো ছিল না। তিন দিন ধরে তার পেটে কোনো খাবার পড়েচি। তার ৮২ বছর বয়সী মা কিল্লো দেবি জানিয়েছেন, দশ দিন আগে সরকার থেকে পাওয়া শস্য ও কেরোসিন বেঁচে দিয়েছিলেন ছেলের জন্যে ওষুধ কিনতে। কোনো মানুষের সহায়তা পাননি তিনি। বাইরে গিয়ে ভিক্ষে করে অর্থ বা খাবার জোগাড়ের সাধ্যও ছিল না অশীতিপর বৃদ্ধা মায়ের। 

প্রতিবেশীরা আরো জানান, চাঁদ নরসুন্দরের কাজ করতেন। কিন্তু বছর দুয়েক আগে রোগে পড়ে প্যারালাইসিস হয় তার। তিনি বিবাহিত ছিলেন না এবং মাকে নিয়ে থাকতেন। এই তীব্র শীতে তাদের ছেঁড়া-ফাটা কাঁথা বা কম্বল কিছু দিয়েছিলেন প্রতিবেশীরা। 

মনে তীব্র ক্ষোভ এবং দুঃখ নিয়ে এখনও বেঁচে আছেন বৃদ্ধা মা। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে তিনি জানান, তার বাড়িতে খাওয়ার কিছুই নেই। কিছু দিন আগে প্রতিবেশীরা খাওয়ার জন্যে কয়েকটি রুটি দিয়েছিলেন। তার কিছুটা ছিল। সেদিন ছেলের মুখে কিছু রুটি দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সে খায়নি। দুর্বলতার কারণে তিনিও বাইরে যেতে পারেননি। আর গত দুই দিনে আশপাশের কেউ তাদের বাড়িতে খোঁজ-খবরও নিতে আসেননি। 

প্রতিবেশি ব্রিজেশ সাক্সেনা বলেন, গত দুই বছর ধরে চাঁদের আয়ের একটাই উপায় ছিল। তা হলো কারো বিয়ে হলে তখন অর্থ দেওয়া হয় নাপিতদের। এই গ্রামের পুরনো রীতি এটি। গাঁয়ের কারো ছেলে-মেয়ের বিয়ে হলে তারা ওই গ্রামের নাপিতদের কিছু অর্থ দেন। বিয়ে হলে তখনই কেবল সামান্য অর্থ পেতেন চাঁদ। 

কিন্তু এভাবে কী আর জীবন চলে? ক্ষুধায় ভুগে একসময় মায়ের চোখের সামনে বিদায় নিল তার পুত্রধন। 

এর আগেও ক্ষুধায় ফাতেহগঞ্জে সাকিনা নামের এক নারীর মৃত্যু ঘটে ক্ষুধার কারণে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন তা অস্বীকার করে। 
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া



মন্তব্য