kalerkantho


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ইরানে বিক্ষোভকারীদের বড় অস্ত্র সোশ্যাল মিডিয়া

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৯:৩০



ইরানে বিক্ষোভকারীদের বড় অস্ত্র সোশ্যাল মিডিয়া

ইরানে বিক্ষোভকারীরা তাদের প্রতিবাদী কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে।

গত বৃহস্পতিবার উত্তর পূর্বের মাশাদ শহরে শুরু হওয়া ওই বিক্ষোভ গত চার-পাঁচ দিনে অনেকগুলো শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে  রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। জিনিসপত্রের দামবৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও এখন তা রাজনৈতিক চেহারা নিয়েছে এবং এগুলো থেকে ধর্মীয় নেতা-নিয়ন্ত্রিত সরকারকে উৎখাতের ডাকও দেওয়া হচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা এই প্রতিবাদের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে মূলত টেলিগ্রাম এবং ইনস্টাগ্রাম এই দুটি সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। বিশেষ করে টেলিগ্রাম ইরানে খুবই জনপ্রিয়। দেশটির জনসংখ্যা আট কোটি এবং তার মধ্যে ৫০ শতাংশেরও বেশি টেলিগ্রামে সক্রিয়।

ইরানের কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় এই সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে, কিন্তু তারপরও গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে এক শহর থেকে আরেকটিতে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরিব বলেছে, 'সাময়িক' এই বিধিনিষেধ শান্তি বজায় রাখার জন্য দরকার।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি নতুন এক ভাষণে বলেছেন, সরকারবিরোধী এসব বিক্ষোভ 'কিছুই নয়।' তিনি বলেন, 'সমালোচনা এবং প্রতিবাদ তাদের জন্য কোনো হুমকি নয় বরং সুযোগ এবং আইনভঙ্গকারীদের মোকাবিলা করা হবে।'

ইরানে মিডিয়ার ওপর সরকারের কড়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বিক্ষোভ ও সহিংসতার খবরগুলো মূলত বের হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দিয়েই। বিক্ষোভকারীরা প্রধানত তরুণ এবং তারা বিশেষ করে টেলিগ্রাম ও ইন্সটাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে।

টেলিগ্রামের প্রধান নির্বাহী পাভেল দুরোভ টুইট করেছেন, তার কম্পানি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দিতে অস্বীকার করার পরই ইরানি কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়।

দুরোভ টেলিগ্রামে এক পোস্ট দিয়ে জানান, বিদেশভিত্তিক একটি বড় সরকারবিরোধী চ্যানেল আমাদনিউজকে পুলিশের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানানোর পর টেলিগ্রাম নিজেই শনিবার ব্লক করে দেয়। তিনি বলেন, তাদের লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের জন্য একটি নতুন শান্তিপূর্ণ চ্যানেল খোলা হয়েছে- তবে এতে ঢোকার ওপর এখন বিধিনিষেধ রয়েছে।

এর আগে ইরানের যোগাযোগমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ আজারি জাহরোমি অভিযোগ করেন, 'আমাদনিউজের মতো' চ্যানেলগুলো সশস্ত্র অভ্যুত্থান, সামাজিক অস্থিরতা ও পেট্রল বোমা ব্যবহারের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।



মন্তব্য