kalerkantho


ইরানের বিক্ষোভ সম্পর্কে যে ৫টি বিষয় জানা দরকার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২১:৪৭



ইরানের বিক্ষোভ সম্পর্কে যে ৫টি বিষয় জানা দরকার

গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে ওই বিক্ষোভ। যাতে এখন পর্যন্ত দুজন নিহত হয়েছে। এখানে রইল এ সম্পর্কিত পাঁচটি বিষয় যা আপনার হয়তো জানা নেই।

কী ঘটছে?
ইারনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশাদে গত বৃহস্পতিবার জনগন দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। অনেকে বলছেন ইরানের পররাষ্ট্রনীতির কারণে দেশটিতে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। কারণ ইরাক ও সিরিয়া সহ আঞ্চলিক বিভিন্ন সংঘাতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে। আবার অনেকে বলছেন, অবশেষে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আঁচ লোকের পকেটে গিয়েও লেগেছে।

শুক্রবারের মধ্যেই রাজধানী তেহরান সহ অন্যান্য প্রধান নগরীগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারীরা কী চাইছেন?
অনেকে বিক্ষোভ করছেন দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে।

অনেকে আবার সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধেও স্লোগান দিচ্ছেন। যেমন, ‘রুহানির মৃত্যু হোক’, ‘ফিলিস্তিন ভুলে যাও’, ‘না গাজা, না লেবানন, আমার জীবন ইরানের জন্য’।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের দোহা সেন্টারের ভিজিটিং ফেলো আলী ফাতোল্লাহ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির ব্যর্থ অর্থনৈতিক নীতির কারণেই দেশটিতে তলে তলে ক্ষোভ জমছিল। সেটাই এখন বিস্ফোরিত হয়েছে।’

‘আর তাছাড়া রাজনৈতিক দমন-পীড়নও চলছিল। সুতরাং মূলত আর্থসামাজিক কারণের পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষোভও আছে।’

পটকিন আজারমেহের নামে ইরানের এক গণতন্ত্রমনা সেক্যুলার ব্লগার বলেন, বহুদিন ধরেই ইরানে অল্প-বিস্তর বিক্ষোভ চলে আসছিল। এখন তাদের স্লোগানগুলো আরো র‌্যাডিক্যাল বা বিপ্লবী হয়ে উঠেছে।

ইরান সরকার কী বলছে?
দেশটির সরকার অর্থনীতির দুর্দশার কথা মেনে নিয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদেরকে কোনো জাতীয় ঐক্যনাশক আচরণ করতে মানা করেছে।

সরকার বলেছে, যারা জনগনের সম্পদের ক্ষতি করছে, শৃঙ্খলা নষ্ট করছে এবং আইন ভাঙছে তাদেরকে শাস্তি পেতে হবে।

ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গীরি বলেন, কিছু বিক্ষোভকারী দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে। অন্যরা, সরকারকে সমস্যায় ফেলতে রাস্তায় নেমেছে। ইরানের সব অর্থনৈতিক সুচকই ভালোর দিকে যাচ্ছে। তবে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি আছে তা সত্য। সরকার সে সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।

ইরান সরকারের দাবি বিদেশি এজেন্টরা সরকারকে বিপাকে ফেলতেই এই বিক্ষোভ উস্কে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া কী?
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদেরকে গ্রেপ্তারে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে বেশ কয়েকটি টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘নিপীড়করা কখনোই চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। বিশ্ব দেখছে।’

সিরিয়া এবং ইয়েমেন ইস্যুতে পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের মতবিরোধ চলছিল বহুদিন ধরেই। ২০১৫ সালে বারাক ওবামা সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের ছয় শক্তিধর রাষ্ট্রের সঙ্গে যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে ইরানের তাও মেনে নেননি ট্রাম্প।

শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন বিবৃতি দিয়ে ইরানের বিক্ষোকারীদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য বিশ্বের প্রতি আহবান জানায়।

ফ্রান্স এবং জার্মানিতেও ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে।

এরপর কী ঘটতে পারে?
রবিবারও ইরানে বিক্ষোভ হয়েছে। সামাজিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যতটা ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়েও বেশি দ্রুত গতিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরানের একটি স্বাধীন অনলাইন নিউজ সার্ভিস ইরান ইন্টারন্যাশনাল এর সাংবাদিক নেগার মোরতাজাভি বলেন, ‘প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল প্রশাসন এবং প্রেসিডেন্ট এর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার চেয়ে বেশি কিছু ঘটবে না। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ইরানি জনগনের ভেতরে মতবিরোধ আরো অনেক গভীর। আর জনগনের ক্ষোভ প্রেসিডেন্টকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপরও গিয়ে পড়ছে। যা বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামোর সব পক্ষের জন্যই উদ্বেগের বিষয় উঠছে।’

সূত্র: আল জাজিরা



মন্তব্য