kalerkantho


নেপালে জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে মাওবাদী জোটের জয়-জয়কার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২১:১৮



নেপালে জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে মাওবাদী জোটের জয়-জয়কার

লাল শাড়িতে নিজেকে মুড়ে নিয়েছে হিমালয় কন্যা। নেপালের জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচনে এমনই ইঙ্গিত মিলতে শুরু করল। পার্বত্যাঞ্চল থেকে তরাই ভূমি সর্বত্রই প্রবল লাল ঝড়।

কাঠমান্ডু থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট, ভোট গণনার সাম্প্রতিক ফল- বিপুল ক্ষমতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে বামপন্থী-মাওবাদী জোট। বিরোধী আসনে বসতে চলছে নেপালি কংগ্রেস। নতুন সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর প্রথমবার জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন একসঙ্গে হল নেপালে। সেই অর্থে এই নির্বাচন ঐতিহাসিক।

কাঠমান্ডু পোস্ট লিখছে, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে সিপিএন (ইউএমএল) ও সিপিএন (মাওয়েস্ট-সেন্টার) জোট। প্রবল ধাক্কা খাচ্ছে নেপালি কংগ্রেস সহ অন্যান্য দলগুলি।
 
বিজয়ের মুখে পৌঁছে যাওয়া সিপিএন (ইউএমএল) দলের নেতা কেপি শর্মা ওলি ও মাওবাদী প্রধান প্রচন্দ (পুষ্প কুমার দাহাল) দুজনে আগেই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এখানেই প্রশ্ন, বামপন্থী সরকারের আমলে নেপাল কি ফের চীনের দিকে ঝুঁকবে। কারণ ক্ষমতা হারাতে চলা নেপালি কংগ্রেস বরাবরই ভারতপন্থী।

২০১৫ সালে নেপালে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। সেই সংবিধানের আওতায় এবার নির্বাচন হয়েছে। দুই কক্ষ বিশিষ্ট নেপালের জাতীয় আইনসভার পার্লামেন্ট দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। একটি হল হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভ (প্রতিনিধিসভা) ও দ্বিতীয়টি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি (রাষ্ট্রীয় সভা)। প্রতিনিধিসভার সদস্য সংখ্যা ২৭৫, এদের মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি নির্বাচিত হন। বাকি আর ১১০ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন আনুপাতিক হারে। আর রাষ্ট্রীয় সভায় আছে ৫৯ আসন।

গত এক দশকে নেপালের সরকারে বারে বারে এসেছে নেপালি কংগ্রেস, সিপিএন (ইউএমএল) এবং সিপিএন (মাওয়িস্ট-সেন্টার)। কিছু আঞ্চলিক দলের শক্তি লক্ষ্য করা গিয়েছে ভারত সংলগ্ন এলাকাগুলিতে। মূলত এই অঞ্চলে শক্তিশালী হয়েছে মাধেশি জনাধিকার ফোরাম।

দীর্ঘ সময় রাজতন্ত্রের অধীনে পরিচালিত হয়েছে নেপাল। রাজ পরিবার হিন্দু এবং জনগণের বেশিরভাগও একই ধর্মের হওয়ায় নেপাল পরিচিতি হয়েছিল ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হিসেবে। ১৯৯০ সাল থেক প্রবল রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলন ও গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০০৭ সালে রাজতন্ত্রের পতন হয়। ক্ষমতায় আসে নেপালি মাওবাদীরা। বর্তমানে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত নেপাল।

রাজনৈতিক দোদুল্যমান পরিস্থিতিতে গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সময় পার হয়েছে। অস্থিতিশীল সরকার ছিল নেপালের বৈশিষ্ট। আগামী সরকার কি স্থিতিশীল হবে? লাখ টাকার এই প্রশ্ন বাগমতী নদীর তীর থেকে ছড়িয়েছে দুনিয়া জুড়ে।

দ্য হিমলয়ান টাইমস ও মাই রিপাবলিকা-র রিপোর্ট, নতুন সংবিধানের অধীনে সরকার গড়ার খুব কাছে বামপন্থী জোট। দেশের আগামী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বামপন্থী।

আগেই দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন কমিউনিস্ট নেত্রী বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারি, জাতীয় আইনসভার স্পিকার হয়েছেন মাওবাদী নেত্রী ওনসারি ঘারতি। সবমিলে লাল শাড়িতে মুড়ে নব অভিষেকের পথে হিমালয় কন্যা নেপাল।


মন্তব্য