kalerkantho


‘মুসলিম ছেলেদের সঙ্গে প্রেম ঠেকাতে মেয়েদের ফোনে নজর রাখুন’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ নভেম্বর, ২০১৭ ১৯:২২



‘মুসলিম ছেলেদের সঙ্গে প্রেম ঠেকাতে মেয়েদের ফোনে নজর রাখুন’

কীভাবে মেয়ে-বোনদের লাভ জিহাদ থেকে রক্ষা করবেন ধর্মীয় মেলায় এমনই বেশ কিছু পরামর্শ দিয়ে পুস্তিকা বিলোনোর অভিযোগ উঠেছে ভারতের রাজস্থান সরকারের বিরুদ্ধে।

রাজস্থানের জয়পুরে ১৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই মেলা।

চলবে পাঁচ দিন। সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের সকল সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোর ছাত্রদের এই মেলার হাজির থাকার জন্য বার্তা পাঠানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, মেলায় কিছু বিতর্কিত পুস্তিকা বিলোনো হচ্ছে। আর সেই পুস্তিকার মূল বিষয়বস্তু লাভ জিহাদ।

‘কীভাবে মুসলিম ছেলেরা হিন্দু মেয়েদের প্রণয়ের জালে ফাসিয়ে তাঁদের ইসলামে ধর্মান্তরিত করছে, আর সেই বিষয়টি আটকাতে গেলে কী করা উচিত’ তার পরামর্শ দেওয়া আছে। পুস্তিকাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জিহাদ অ্যান্ড লাভ জিহাদ’।

কী পরামর্শ দেওয়া রয়েছে তাতে?

ওই পুস্তিকায় বলা হয়েছে, হিন্দু মেয়েদের বিশ্বাস অর্জন করে সহজেই তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে মুসলিম ছেলেরা। তার পর চ্যাটিং, নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দেওয়া, হাতে তাগা বাঁধার মতো কাজ করে সহজেই হিন্দু মেয়েদের মন জয় করে নেয়। শুধু তাই নয়, লাভ জিহাদের ফাঁদে পড়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে পরিবারের অমতে মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করে।

এ তো গেল লাভ জিহাদের ফাঁদে পড়ে হিন্দু মেয়েদের কী দশা হয় তার কথা। এর থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে হিন্দু মেয়েদের পরিবারের উদ্দেশেও বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া রয়েছে ওই পুস্তিকায়।

সেখানে বলা হয়েছে, লাভ জিহাদের ফাঁদে পড়েছে কি না, তা নজরে রাখতে মেয়েদের মোবাইল ফোনের সকল তথ্য খতিয়ে দেখতে হবে। কে ফোন করছে, কে টেক্সট করছে বা কার সঙ্গে কথা বলছে সব নজরবন্দি করলেই অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

এখানেই শেষ নয়। ওই পুস্তিকায় আমির ও সাইফ আলি খানেরও উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, কী ভাবে তাঁরা হিন্দু মেয়েদের বিয়ে করেছেন। হিন্দু মেয়েদের বিয়ে করে ইসলামে ধর্মান্তিরত করার জন্য মুসলিম ছেলেরা কত টাকা পায় তার একটা তালিকাও তৈরি করা হয়েছে ওই পুস্তিকায়।

মেলায় এ ধরনের পুস্তিকা বিলোনোর ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে গিয়েছে ভারতের রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।  

ভারতের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী শশী থারুর এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ধর্মীয় মেলায় ছাত্রদের আসা বাধ্যতামূলক করা উচিত হয়নি। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, মেলায় এ ধরনের পুস্তিকা ছড়িয়ে বিদ্বেষ ও ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।


মন্তব্য