kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রে জীবাণু হামলা চালাতে ভয়ানক জৈব অস্ত্র বানাচ্ছে উত্তর কোরিয়া

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ১৭:০২



যুক্তরাষ্ট্রে জীবাণু হামলা চালাতে ভয়ানক জৈব অস্ত্র বানাচ্ছে উত্তর কোরিয়া

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জীবাণু হামলা চালানোর লক্ষ্যে ব্যাপকভাবে জীবাণু অস্ত্র বানাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির একটি গবেষণাগারে গুটি বসন্ত, কলেরা, প্লেগ ও অ্যানথ্রাক্সের মতো মহামারীর জীবাণু তৈরি করা হচ্ছে।

ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও প্লেনের মাধ্যমে ভয়াবহ এই সংক্রামক জীবাণুগুলো মার্কিন সেনাদের ওপর ছড়িয়ে দেয়া হতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ সব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন গোপনে জৈব অস্ত্রের ব্যাপক উৎপাদন করছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একটি কৃষি গবেষণাগারে দেশটির রসায়নবিদরা গুটি বসন্ত, কলেরা ও প্লেগের মতো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ কয়েকটি মহামারী রোগের জীবাণু অস্ত্র প্রস্তুতি করছেন। দ্য সান এ খবর দিয়েছে।

বেলফার সেন্টার অব হারভার্ড ইউনিভার্সিটির কেনেডি স্কুলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার হাতে এরই মধ্যে জৈব অস্ত্র রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, জৈব অস্ত্র উৎপাদনের জন্য দেশটির বেশ কিছু বড় ধরনের গবেষণাগার রয়েছে। সেগুলোতেই গোপনে উৎপাদন করা হচ্ছে মারণঘাতি রোগের জীবাণু।

জীবাণুগুলো ছড়িয়ে দিতে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, প্লেন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করা হতে পারে।

দেশটির ২ লাখের মতো বিশেষ সেনা রয়েছে। জীবাণুগুলো ছড়াতে তাদেরকেও ব্যবহার করা হতে পারে। এ ধরনের মহামারী ছড়িয়ে দেয়া গেলে লাখ লাখ মার্কিন সেনার প্রাণহানি হতে পারে।

প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, ‘পরমাণু পরীক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু কর্মসূচির ওপর নজরদারি করা গেলেও জৈব অস্ত্র উৎপাদনের বিষয়টি অগোচরে থেকে যাচ্ছে। তাছাড়া জৈব অস্ত্র উৎপাদনে যে সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, তা কৃষির ক্ষেত্রেও ব্যবহার হতে পারে। সে কারণে এ ক্ষেত্রে বাইরে থেকে নজরদারি ও যাচাই প্রায় অসম্ভব। ’

এদিকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানটান উত্তেজনার মধ্যে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম বি-৫২ বিমানবহর প্রস্তুত করছে মার্কিন বিমান বাহিনী এয়ারফোর্স। ১৯৯১ সালের পর প্রথমবারের জন্য বিমান বাহিনীর এই বহরকে ২৪ ঘণ্টা সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ রোববার এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। খবর ফক্স নিউজের। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ফক্স নিউজের এ খবর অস্বীকার করলেও জেনারেল ডেভিড গোল্ডেন বলেছেন, এরকমটা ঘটতে পারে।

গোল্ডেন বলেন, ‘বিশ্বে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা সরাসরি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা প্রস্তুতির নতুন উপায়গুলোর কথা চিন্তা করছি। ’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব এখন আর যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন শুধু এই দুই মেরুতে বিভক্ত নেই। এখানে পরমাণু শক্তির অধিকারী আরও একটি খেলোয়াড় হাজির হয়েছে। ’ এ নতুন খেলোয়াড় বলে তিনি উত্তর কোরিয়াকেই বুঝিয়েছেন।

বি-৫২ বিমানবহরটি লুইজিয়ানার বার্কসডেল এয়ারফোর্স ঘাঁটি থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। এক রিপোর্টে জানা গেছে, ঘাঁটিটি নতুন করে উজ্জীবিত করা হচ্ছে। এখন সংকেত পেলেই যেকোনো মুহূর্তে উড়তে প্রস্তুত পরমাণু বোমাবাহী বি-৫২ বিমানবহর। এ বিমানগুলো ৫০ হাজার ফুট উঁচুতে শব্দের চেয়েও দ্রুত গতিতে উড়তে পারে। পরমাণু বোমা, গুচ্ছ বোমা, গ্রাভিটি বোমা ও গাইডেড মিসাইলসহ বিভিন্ন ধরনের বোমা নির্ভুল নিশানায় ফেলতে সক্ষম বিমানগুলো। বিমানগুলো ৭০ হাজার পাউন্ড সমপরিমাণ বোমা বহন করতে পারে।

বি-৫২ বিমান প্রথমবারের মতো ১৯৫৪ সালে আকাশে ওড়ে। সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে শীতল যুদ্ধকালে বিমানগুলো ২৪ ঘণ্টা সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সতর্কাবস্থার শেষ হয়।


মন্তব্য