kalerkantho


মিয়ানমারের গভীর সমুদ্রবন্দরের ৭০% মালিকানা পাচ্ছে চীন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:৪৭



মিয়ানমারের গভীর সমুদ্রবন্দরের ৭০% মালিকানা পাচ্ছে চীন

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অন্তর্গত বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ একটি গভীর সমুদ্রবন্দরের ৭০ শতাংশ মালিকানা চীন পেতে চলেছে বলে দেশটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক চুক্তিতে চীনকে ৮৫ শতাংশ মালিকানা দেওয়ার কথা হয়েছিল।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আপত্তির কারণে এখন তা কমিয়ে ৭০ শতাংশ করা হয়েছে।  

মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে ওই প্রকল্প দেখভালের দায়িত্বে থাকা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও মং রয়টার্সকে বলেন, আনুমানিক ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের ওই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ নিয়ে চীনের সিআইটিআইসি গ্রুপের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনায় শেয়ার বাড়ানোর চেষ্টা করছে মিয়ানমার। গত সেপ্টেম্বরে এই বিষয়ে চুক্তি হয়।

নতুন প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মিয়ানমারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিওর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে ও মং জানান। এই প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়ে এখনো দুই পক্ষ সিদ্ধান্তে পৌঁছেনি বলে জানান তিনি। চীনের বৃহদায়তন বিনিয়োগ করপোরেশন সিআইটিআইসি কাছে এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তাতে সাড়া মেলেনি।

সিআইটিআইসি মিয়ানমারের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ইউয়ান শাওবিনের একটি সাক্ষাৎকার সোমবার মিয়ানমার টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি ওই কম্পানির ৩০ শতাংশ শেয়ারের কথা বলেছেন। অর্থায়ন নিয়ে সিদ্ধান্তে আরো আলোচনা দরকার বলে জানিয়েছেন তিনি।

রয়টার্স বলছে, ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের এই বন্দরের মালিকানা পেতে চায় চীন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানিতে মালাক্কা প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প পথ পেতে বঙ্গোপসাগরের কিয়া কিউ বন্দর চাইছে, যেখানে চীনা তেল ও গ্যাস পাইপলাইনের সূচনা বিন্দু হবে। এই বন্দর ছাড়াও রাখাইনে একটি স্পেশাল ইকোনোমিক জোন তৈরি করবে চীন। কিয়া কিউ বন্দর রাখাইনের দক্ষিণাঞ্চলে। রাজ্যটিতে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতায় ওই এলাকায় কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে এখন প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়ে কিছুটা মতভিন্নতা তৈরি হয়েছে বলে ও মং জানিয়েছেন।

 


মন্তব্য