• ই-পেপার

কীভাবে অ্যামাজনকে ৫০ লক্ষ টাকা ঠকাল দিল্লির যুবক

‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ ঘোষণা করল নাসা

অনলাইন ডেস্ক
‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ ঘোষণা করল নাসা
ছবি: রয়টার্স

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মানুষ আবার চাঁদে ফেরার স্বপ্ন দেখে আসছে। তবে এবার লক্ষ্য শুধু চাঁদে গিয়ে ফিরে আসা নয়। বিজ্ঞানীরা সেখানে গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা, দীর্ঘমেয়াদে মানুষের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার জন্য চাঁদকে একটি যাত্রা ঘাঁটি বা উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে নাসা। সংস্থাটি আর্টেমিস-৩ মিশনের চার নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে। নাসা এই দলকে ‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। 
আর্টেমিস কর্মসূচি নাসার দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ পরিকল্পনার অংশ। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আবার চাঁদে পাঠানো এবং ভবিষ্যতে আরো গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানের পথ তৈরি করা।

আর্টেমিস-৩ কী?

অনেকের ধারণা ছিল, আর্টেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে মানুষ সরাসরি চাঁদের মাটিতে নামবে। তবে নাসা এখন সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে আর্টেমিস-৩ উৎক্ষেপণ করা হবে। তবে এই মিশনে নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না। বরং এটি হবে একটি বড় ধরনের পরীক্ষামূলক অভিযান। মিশনের সময় প্রায় দুই সপ্তাহ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থান করবে নভোচারীরা। সেখানে বিভিন্ন মহাকাশযান ও প্রযুক্তির মধ্যে সংযোগ, সমন্বয় এবং পরিচালন ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। নাসা চায়, ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণের আগে সব প্রযুক্তি বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মিশন?

এই মিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো নাসার ওরিয়ন মহাকাশযানকে ভবিষ্যতের চন্দ্র অবতরণযানের সঙ্গে যুক্ত করার প্রযুক্তি পরীক্ষা করা। চাঁদে মানুষ পাঠানোর আগে কক্ষপথে একাধিক মহাকাশযান নিরাপদভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে কি না, সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজে ব্যবহার হবে বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের প্রযুক্তি।  বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্টেমিস-৩ ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের ভিত্তি তৈরি করবে। আর্টেমিস-২ এবং চাঁদে অবতরণ মিশনের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করবে এটি। নাসার বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানোর চেষ্টা করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর প্রথমবারের মতো মানুষ আবার চাঁদের মাটিতে পা রাখবে।

কারা থাকছেন আর্টেমিস-৩ দলে?

চার সদস্যের এই দলে রয়েছে অভিজ্ঞ মহাকাশচারী, দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকার রেকর্ডধারী, একজন নতুন নভোচারী এবং আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধি। মিশনের নেতৃত্ব দেবেন র‍্যান্ডি ব্রেসনিক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন বাহিনীর সাবেক কর্নেল এবং একজন অভিজ্ঞ নভোচারী। এর আগে তিনি ১৫০ দিনেরও বেশি সময় মহাকাশে কাটিয়েছেন। দলের পাইলট হিসেবে থাকবেন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার নভোচারী লুকা পারমিতানো। তিনি ইউরোপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মহাকাশচারীদের একজন। আর্টেমিস কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রথম ইউরোপীয় নভোচারীও তিনি। মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে থাকছেন ফ্র্যাঙ্ক রুবিও। তিনি টানা ৩৭১ দিন মহাকাশে অবস্থান করে একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে দীর্ঘতম মহাকাশযাত্রার রেকর্ড গড়েছেন। দলের চতুর্থ সদস্য আন্দ্রে ডগলাস। তিনি একজন প্রকৌশলী, রোবট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক উপকূলরক্ষী কর্মকর্তা। এটি হবে তাঁর প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ।

নাসার মতে, ভবিষ্যতে চাঁদের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিচালনা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ কেন?

নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান আর্টেমিস-৩ দলের পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে ‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ (আর্থস ফার্স্ট স্টারফ্লিট) কথাটি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরেন, যেখানে মহাকাশ অনুসন্ধান শুধু একটি দেশের সরকারি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের মহাকাশ সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারেরা একসঙ্গে কাজ করছে। 
আর্টেমিস কর্মসূচিও এই বৈশ্বিক সহযোগিতার ফল। স্পেসএক্স চাঁদে মানুষের অবতরণের জন্য স্টারশিপ প্রযুক্তি তৈরি করছে। অন্যদিকে ব্লু অরিজিনও নিজেদের অবতরণযান উন্নয়নের কাজ করছে।

এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও নভোচারী দিয়ে এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে।

চন্দ্র পোশাকে 'প্রাডা'?

সম্প্রতি নতুন প্রজন্মের চন্দ্র পোশাক তৈরিতে ইতালির বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড 'প্রাডা'র সম্পৃক্ততার খবর আলোচনায় আসে। তবে বিষয়টি ফ্যাশনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রাডা সরাসরি নাসার জন্য পোশাক তৈরি করছে না। তারা নাসার চুক্তিকারী প্রতিষ্ঠান 'অ্যাক্সিয়ম স্পেস'কে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। প্রাডা উন্নত কাপড়, বিশেষ উপকরণ এবং উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করছে। এই সহযোগিতার ফল হিসেবে তৈরি হয়েছে নতুন অ্যাক্সইএমইউ স্পেসস্যুট। নতুন এই পোশাক নভোচারীদের চাঁদের চরম তাপমাত্রা, ধুলা ও বিকিরণ থেকে সুরক্ষা দেবে। এতে বিশেষ শীতলীকরণ ব্যবস্থাও রয়েছে। পোশাকের ভেতরে এমন একটি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে পানির প্রবাহের মাধ্যমে নভোচারীদের শরীর ঠান্ডা রাখা হবে।

চাঁদ থেকে মঙ্গলের পথে

আর্টেমিস-৩ মিশনের ঘোষণা এসেছে আর্টেমিস-২ এর সফলতার পর। ২০২৬ সালে আর্টেমিস-২ মিশনে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশ ঘুরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। সেই মিশন প্রমাণ করে, নাসার ওরিয়ন মহাকাশযান গভীর মহাকাশে মানুষকে নিরাপদে বহন করতে সক্ষম। এখন আর্টেমিস-৩-এর দায়িত্ব হলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি মহাকাশযান ও প্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ করতে পারে কি না, তা প্রমাণ করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধাপটি চাঁদে অবতরণের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপোলো কর্মসূচি প্রমাণ করেছিল মানুষ চাঁদে পৌঁছাতে পারে। আর্টেমিস কর্মসূচির লক্ষ্য হলো দেখানো যে মানুষ সেখানে দীর্ঘ সময় থাকতে পারে, ঘাঁটি তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করতে পারে। তাই আর্টেমিস-৩ চাঁদে না নামলেও এর গুরুত্ব কম নয়। বরং এই মিশনের সফলতা নির্ধারণ করতে পারে ভবিষ্যতের চন্দ্র ঘাঁটি বা উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ,  মহাকাশ গবেষণা এবং মঙ্গল অভিযানের পথ।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, মানুষ আবার চাঁদে ফিরবে। আর সেই পথ ধরেই একদিন শুরু হতে পারে মঙ্গল গ্রহে মানুষের যাত্রা।


 

লেবাননের জনগণকে হিজবুল্লাহবিরোধী অবস্থান নেওয়ার আহ্বান নেতানিয়াহুর

অনলাইন ডেস্ক
লেবাননের জনগণকে হিজবুল্লাহবিরোধী অবস্থান নেওয়ার আহ্বান নেতানিয়াহুর
ছবি : রয়টার্স

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার লেবাননের জনগণকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জঙ্গি গোষ্ঠীটি তাদের দেশকে ‘জিম্মি’ করে রেখেছে।

লেবাননের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল আপনাদের সঙ্গে যুদ্ধে নেই। আমরা হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে আছি। তারা আপনাদের দেশকে জিম্মি করে রেখেছে... আমরা আপনাদের সঙ্গে, লেবাননের সঙ্গে শান্তি কামনা করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইসরায়েল আপনাদের সঙ্গে শান্তি চায়। নিজেদের ভবিষ্যৎকে নিজের হাতে তুলে নিন। ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিন। আমাদের সকল সন্তানের জন্য নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি গড়ে তুলুন। আর একবার হিজবুল্লাহকে নির্মূল করা গেলে, সম্ভাবনার কোনো শেষ থাকবে না এবং তা হবে আকাশচুম্বী।’

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ক্রমেই আরো গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব পুরো অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য আরো গভীর সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছে এবং এর পরিণতি শুধু এই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।’

গুতেরেস বলেন, ‘এই সপ্তাহে হামলার পরিধি বেড়েছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি রয়েছে, তা অনেকটা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের বদলে কম মাত্রার সংঘাতের মতো।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কম মাত্রার এই সংঘাত যে কোনো সময় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এই ঝুঁকিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।’ সব পক্ষকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর কোনো হামলা নয়, আর কোনো অজুহাত নয়।’


 

মধ্যপ্রাচ্যে ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি আইআরজিসির, নিশানায় মার্কিন ঘাঁটি

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি আইআরজিসির, নিশানায় মার্কিন ঘাঁটি
ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডবাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাও ছিল।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে। তাদের দাবি, ওই ঘাঁটিতে অবস্থান করা মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর বিরুদ্ধে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিমানগুলো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। লক্ষ্যবস্তুতে থাকা যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ মডেলের বিমান ছিল বলে দাবি করেছে তারা।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আল-আজরাক ঘাঁটিতে থাকা বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। তবে এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শুধু জর্ডান নয়, কুয়েতের দুটি বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের একটি বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।

ইরানের এই বাহিনী আরো জানিয়েছে, তাদের কয়েকটি হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি। তাদের দাবি, এসব হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হামলার প্রভাব ছিল ব্যাপক।

আইআরজিসির মতে, এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হামলাগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হয় বলে তারা জানিয়েছে।

ইরানি বাহিনীর দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে সাম্প্রতিক হামলা চালিয়েছে, তার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি বলছে, রাতে এক বা দুই দফায় মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে উঠেছে। আঞ্চলিক দেশগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এভাবে বাড়তে থাকলে সংঘাত আরো বড় আকার ধারণ করতে পারে।
 

বাধা ভেঙে কেমব্রিজে, ঘানার তিন নারীর সাফল্য

অনলাইন ডেস্ক
বাধা ভেঙে কেমব্রিজে, ঘানার তিন নারীর সাফল্য
ছবি : কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সহায়তা সংস্থা ক্যামফেড কেমব্রিজ ও জিম্বাবুয়েতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সংস্থাটি জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, তানজানিয়া, মালাউই, কেনিয়া ও ঘানায় মেয়েদের শিক্ষার মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে কাজ করছে।

ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকায় প্রতি ১০ জন মেয়ের মধ্যে মাত্র ৬ জন মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে। সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার ১০ শতাংশেরও কম।

২৫ বছর বয়সী ফ্রান্সিসকা আরহিনফুল ঘানার মধ্যাঞ্চলের আজুমাকো এলাকায় বড় হয়েছেন। আর্থিক সংকটের কারণে তার উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। পরে পরিবারের এক খালা তার পড়াশোনার খরচ বহন করলে তিনি শিক্ষা চালিয়ে যেতে পারেন। এরপর ক্যামফেড তাকে বৃত্তি দেয় এবং তার মতো সুবিধাবঞ্চিত পটভূমি থেকে আসা তরুণীদের সংগঠন ক্যামফেড অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যুক্ত করে। 

আরহিনফুল বলেন, এই সহায়তা তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং তাকে সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমানে ২৯ বছর বয়সী মেনসাহ ১৪ বছর বয়সে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল তার মায়ের ক্যাটারিং ব্যবসা। তাই মাকে সাহায্য করার জন্য তাকে পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়।

মেনসাহ বলেন, তিনি আবার পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কখন সেই সুযোগ পাবেন তা জানতেন না। পরে তার বাড়ির কাছাকাছি একটি বিনামূল্যের উচ্চবিদ্যালয় চালু হলে তিনি আবার লেখাপড়া শুরু করার সুযোগ পান।

শেষ পর্যন্ত মেনসাহ, আরহিনফুল ও ইসাহ, তিনজনই ক্যামফেডের সহায়তায় ঘানার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য অর্থায়ন পান। পরে সংস্থাটি তাদের মাস্টারকার্ড ফাউন্ডেশনের স্কলার্স প্রোগ্রামে যুক্ত হতে সহায়তা করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পড়াশোনার পুরো খরচ বহন করা হয়।

বর্তমানে এই তিন নারী তাদের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা মেয়েদের সহায়তা করতে কাজ করছেন। তারা ক্যামফেডের ‘লার্নার গাইড’ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। লার্নার গাইডরা সহপাঠী পরামর্শক হিসেবে ছেলে-মেয়েদের জীবনদক্ষতা ও মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে শিক্ষা দেন, যাতে বিশেষ করে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মেয়েরা স্কুলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।

কীভাবে অ্যামাজনকে ৫০ লক্ষ টাকা ঠকাল দিল্লির যুবক | কালের কণ্ঠ