kalerkantho


মিয়ানমারের জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূতের সেই একই মিথ্যাচার

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এথনিক ক্লিনজিং বা গণহত্যা চলছে না : মিয়ানমার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৪:৩৫



রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এথনিক ক্লিনজিং বা গণহত্যা চলছে না : মিয়ানমার

বক্তব্য রাখছেন হাও দো সুয়ান

গতকাল মিয়ানমারের জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত জোর গলায় বলেছেন, দেশটিতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের 'এথনিক ক্লিনজিং' বা গণহত্যা চলছে না। সেই সঙ্গে চলমান অবস্থার বর্ণনায় বিভিন্ন দেশের ব্যবহৃত 'এ ধরনের শক্তিশালী শব্দ'র বিষয়েও আপত্তি তুলেছেন তিনি।

 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলছে নিউ ইয়র্কে। এ অধিবেশনের ষষ্ঠ দিন বিশ্বনেতাদের সামনে 'জবাব দেওয়ার অধিকার' এর প্রয়োগ করেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হাও দো সুয়ান। মিয়ানমারে রাখাইনে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের মধ্য থেকে যারা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তাদের বক্তব্যকে 'দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য' এবং 'অপ্রতিবাপাদিত অভিযোগ' বলে মনে করছেন তিনি।  

অবশ্য কোন দেশগুলো এমন মন্তব্য করছে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি তিনি। তবে বিশ্বের অনেক দেশই রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সরকারের অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলেছেন। সেই ২৫ আগস্ট থেকে সাড়ে চার লাখ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের পালিয়ে আসার বিষয়েও কথা বলেছেন অনেকে।  

ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার জন্য মিয়ানমারের পরিচালিত 'এথনিক ক্লিনজিং' অপারেশন নিয়ে যারা কথা বলেছেন তাদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস প্রধান জায়েদ রাদ আল-হুসেইন এবং বেশ কয়েকটি ইসলামিক দেশ। কিন্তু এদের সবার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন সুয়ান।  

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এথনিক ক্লিনজিং চলছে না।

গণহত্যা চলছে না। মিয়ানমারের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতা এবং মানবাধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তারা এ ধরনের নীতি সমর্থন করেন না। এথনিক ক্লিনজিং এবং গণহত্যা ঠেকাতে আমরা সবকিছুই করবো।  

তিনি রাখাইন রাজ্যে চলমান পরিস্থিতিকে 'দারুণ জটিল' বলে অখ্যায়িত করেছেন। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক মহলকে উত্তর রাখাইনকে নিরপেক্ষ এবং পক্ষপাতহীন দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করতে বলেছেন। নিরাপত্তা চৌকিতে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির হামলার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। আর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং নিরাপরাধ জনগণকে রক্ষা করা প্রত্যেক সরকারের দায়িত্ব, যোগ করেন হাও দো সুয়ান।  

এদিকে, শেখ হাসিনার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কোনো কথা না বললেও গত বুধবার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স কথা বলেছেন। তিনি রোহিঙ্গা দমনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর কার্যক্রমকে 'মারাত্মকভাবে বর্বর' বলে আখ্যায়িত করেছেন। সেই সঙ্গে সতর্ক করে দেন যে, এই নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ পারস্পরিক ঘৃণার বীজ বপন করবে।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কোফি আনান বৌদ্ধ এবং মুসলমানদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাত ঠেকাতে যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সেটাই মিয়ানমার সরকারকে 'পরিষ্কার রোডম্যাপ'সহ দেওয়া হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
সূত্র : ডন 


মন্তব্য