kalerkantho


'ব্যাভিচারী' ১১ শিল্পীকে হত্যাকারী কিম নিজেই রাখেন যৌনদাসী!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৯:৫০



'ব্যাভিচারী' ১১ শিল্পীকে হত্যাকারী কিম নিজেই রাখেন যৌনদাসী!

১১ জন সংগীতশিল্পীকে উড়োজাহাজ ধ্বংসকারী কামানের মুখে বেঁধে উড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। সে সময় এই দৃশ্য দেখতে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে বাধ্য করা হয়েছিল।

নিহত সংগীতশিল্পীদের বিরুদ্ধে পিয়ংইয়ংয়ের মিলিটারি একাডেমিতে পর্ন ভিডিও তৈরির অভিযোগ করা হয়েছিল।

অথচ সেই কিমই কিনা রাখেন কিশোরী যৌনদাসী। এমনটাই অভিযোগ করেছেন দেশটি থেকে চলে যাওয়া এক তরুণী। হি ইয়ন লিম নামের ওই তরুণীর অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার সুন্দরী স্কুলছাত্রীদের ধরে এনে গোপন ডেরায় যৌনদাসী করে রাখেন দেশটির নেতা কিম জং-উন। সেখানেই ওই কিশোরীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইনডিপেনডেন্ট অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার নেতার নানা অত্যাচার পর্যবেক্ষণ করে ভয়ে ওই দেশ ছেড়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে আশ্রয় নিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী তরুণী হি ইয়ন লিম। পিয়ংইয়ংয়ে সেনাবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মেয়ে তিনি। ২০১৫ সালে তিনি উত্তর কোরিয়া ত্যাগ করেন। সম্প্রতি তিনি কিম জং-উনের এই গোপন কর্ম ফাঁস করে এমন তথ্য দিয়েছেন।

হি ইয়ন লিম দাবি করেন, 'পশ্চিমা গোয়েন্দাদের নজর ফাঁকি দিয়ে অনেক বিলাসবহুল গোপন ডেরা তৈরি করেছেন কিম। সেখানেই কিমের নির্দেশে স্কুলের ছাত্রীদের ধরে এনে যৌনদাসী করে রাখা হয়। নিজের যৌনদাসী হিসেবে স্কুলের সবচেয়ে সুন্দর ছাত্রীকে ধরে আনার নির্দেশ দেন তিনি। কিম মূলত সুন্দর ও সুঠাম পা দেখেই তাদের নির্বাচন করেন। '

হি ইয়ন আরও বলেন, তিনি যে স্কুলে পড়াশোনা করতেন, সেই স্কুল থেকেই অনেক মেয়েকে দেশটির নেতার নির্দেশে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বলা হতো কাজের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওই মেয়েদের কাজ হলো নেতাকে খাওয়ানো ও তাঁর শরীর মালিশ করা। যারা এতে আপত্তি জানাত, তাদের আর খুঁজে পাওয়া যেত না।

হি ইয়ন লিম বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের মিলিটারি একাডেমিতে পর্ন ভিডিও তৈরির অভিযোগে ১১ জন সংগীতশিল্পীকে উড়োজাহাজ ধ্বংসকারী কামানের মুখে বেঁধে উড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। সে সময় এই দৃশ্য দেখতে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে বাধ্য করা হয়েছিল।  

দেশত্যাগী এই তরুণী বলেন, বিমানবিধ্বংসী কামানের মুখ থেকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হওয়া লাশের ওপর দিয়ে তারা ট্যাংক চালিয়েছে। মাটির সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছে প্রতিটি দেহ। অমানবিক ও নির্মম এই দৃশ্য দেখতে ওই ১০ হাজার মানুষের মধ্যে মিলিটারি একাডেমিতে এক বান্ধবীসহ তাঁকেও বাধ্য করা হয়েছিল। এই দৃশ্য দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন হি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হি ইয়ন লিমের বাবা উই ইয়ন লিম উত্তর কোরিয়া সেনাবাহিনীর কর্নেল ছিলেন। ওই সময় একটি অনুষ্ঠানে কিমের সঙ্গে দেখা হয়েছিল হির। কিমের অনেক বর্বর ঘটনার সাক্ষী তিনি। ৫১ বছর বয়সে ২০১৫ সালে বাবার মৃত্যুর পর হি ও তাঁর পরিবার পালিয়ে চীনে চলে যান। সেখান থেকে গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে গিয়ে বসবাস শুরু করেন।

এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির এশিয়া বিশেষজ্ঞ কলিন আলেসান্দর বলেন, 'কিছু কিছু ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ায় যৌনদাসী রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আমি দেশটিতে গোপন ডেরা ও যৌনদাসী থাকার বিষয়ে অনেক কিছু পড়েছি। '

চলতি সপ্তাহে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) বলেছে, শিশু যৌন নির্যাতন বন্ধে জাতিসংঘের উত্তর কোরিয়াকে চাপ দেওয়া উচিত। ২০০৮ সাল থেকে এ ধরনের চারটি ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিছু কিছু অভিভাবক পুলিশ বা সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে চান না। কারণ তাঁদের ধারণা, পুলিশ বা সরকারি কর্মকর্তারা এসব ঘটনার সঠিক তদন্ত করবেন না।

উত্তর কোরিয়ার নেতারা অবশ্য এ প্রসঙ্গে বলেন, তাঁদের দেশের নাগরিকের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো 'অসম্ভব' ব্যাপার।  

কিমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি এমন এক সময়ে আসল যখন পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বাগযুদ্ধ চলছে।  

ওদিকে উত্তর কোরিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে চীনও। উত্তর কোরিয়া থেকে আর বস্ত্র কিনবে না চীন। আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা এই দেশটিতে জ্বালানি তেল সরবরাহও সীমিত করে দেবে চীন। গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার দেশ চীনের এমন সিদ্ধান্তে উত্তর কোরিয়া চাপে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে উত্তর কোরিয়ায় জ্বালানি তেল সরবরাহ কমানো হবে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহও কমানো হবে। জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুসারে এখন সীমিত পরিমাণ তেল রপ্তানি করা হবে।

চীন উত্তর কোরিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার; উত্তর কোরিয়ার আয়ের অন্যতম উৎস। চীনের রপ্তানি করা তেল উত্তর কোরিয়ার পেট্রোলিয়াম-জাতীয় পণ্যের অন্যতম উৎস। চীনের বস্ত্র কেনা বন্ধে পিয়ংইয়ংয়ের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে।

এএফপির খবরে জানা যায়, গত দুই মাসে উত্তর কোরিয়ায় পেট্রলের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ। পেট্রল পাম্পের এক কর্মী বিবিসিকে বলেন, 'গতকাল শুক্রবার দাম ছিল ১ দশমিক ৯০ ডলার। আজ সেটি ২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমার আশঙ্কা দাম আরও বাড়বে। '

এ বছরের শুরুতে উত্তর কোরিয়া থেকে কয়লা আমদানি সীমিত করেছে চীন।

বর্তমানে এই দুই দেশের মধ্যে কী পরিমাণ বাণিজ্য সংগঠিত হয়, তা পরিষ্কার নয়। তবে বস্ত্র খাত হচ্ছে পিয়ংইয়ংয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত। চীনের বস্ত্র না কেনার সিদ্ধান্তে বছরে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের আয় হারাবে উত্তর কোরিয়া।

আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে এই অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছে চীন। চীনের এই সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সূত্র : দ্য ইনডিপেনডেন্ট


মন্তব্য