kalerkantho


ফের সার্ক সম্মেলন নিয়ে অনিশ্চয়তা

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১২:৪১



দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ

দ্বিতীয় বছরের মতো সার্ক সম্মেলন হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২০১৬ সালে ভারত, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান সম্মেলন থেকে নাম তুলে নেওয়ায় তা ভেস্তে যায়।

এ বছরও এখনো পর্যন্ত এই সম্মেলন আয়োজনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। সাধারণত এই নভেম্বরেই প্রতিবছর সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলো সম্মেলনে অংশ নেয়। তবে এখনো পর্যন্ত এ বছর কোনো আয়োজনের তদ্বির কোনো দেশ দেখায়নি বলে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গত বছরে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সার্ক সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। তবে উরি হামলার পরবর্তী সময়ে সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে সার্ক সম্মেলন থেকে সরে দাঁড়ায় ভারত। নয়াদিল্লির দেখাদেখি বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানও ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে সার্ক সম্মেলন বয়কট করে। এ বছর এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ উদ্যোগ না নেওয়ায় সম্মেলন না হওয়ার সম্ভাবনাই তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ সভা উপলক্ষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ নিউ ইয়র্কে সার্ক গোষ্ঠীভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেও সম্মেলন নিয়ে অনিহাই দেখিয়েছেন তিনি।

এই গোষ্ঠীতে ভারত সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের শৈত্য চলায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শেষ অবধি সার্কের মতো গোষ্ঠীর কার্যপ্রক্রিয়াতেও সমান প্রভাব ফেলেছে। যার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে ছাপ ফেলতে বাধ্য বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

ভারতের তরফে সুষমা স্বরাজ সম্মেলন না করা নিয়ে কোনো কথা বলেননি। তবে ফের একবার স্পষ্ট করেছেন যে সন্ত্রাসবাদ ও সম্মেলন দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। আঞ্চলিক শান্তি, সহযোগিতা, সহাবস্থান ও উন্নতি তখনই সম্ভব যখন সেখানে সন্ত্রাসবাদ ছাপ ফেলতে পারবে না। ভারতের তরফে সুষমা স্বরাজ এটা স্পষ্ট করেই বুঝিয়ে দিয়েছেন। সন্ত্রাসবাদকে সমূলে তুলে ফেলার বিষয়েও তিনি ডাক দিয়েছেন।

সার্ক নিয়ে যেমন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তেমনই বিমসটেক-এ ভারত সার্কভুক্ত দেশগুলোকে এক ছাতার তলায় এনে ফেলেছে। যা থেকে পাকিস্তান নিজেদের সরিয়ে রেখেছে। পাশাপাশি বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভূটান, ভারত ও নেপাল) এর নতুন গোষ্ঠী রেল ও বিদ্যুৎ সেক্টরে উন্নতির জন্য একে অপরের হাত ধরেছে। ফলে সবমিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে।
সূত্র : ওয়ান ইন্ডিয়া


মন্তব্য