kalerkantho


জাতিসংঘে শান্তি, উন্নতি ও কল্যাণ প্রত্যাশা শেখ হাসিনার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১০:৫৪



জাতিসংঘে শান্তি, উন্নতি ও কল্যাণ প্রত্যাশা শেখ হাসিনার

বিশ্বনেতাদের সামনে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। আমরা অর্থনৈতিক উন্নতি চাই, মানব ধ্বংস নয়, মানবকল্যাণ চাই।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেব দেওয়া ১৪তম ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। বাংলায় দেওয়া ভাষণে বিশ্ব শান্তি ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরিচালিত নৃশংস গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা ইস্যুতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জাতিসংঘ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানান তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ের ওপর সময়োপযোগী ও দূরদর্শী বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তুলে ধরেন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্যের গল্প ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা।      

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নে আমরা আশাবাদী মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় পর্যায়ে জলবায়ু সংবেদনশীলতার দিকে লক্ষ্য রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় আমরা কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছি। সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে ব্লু ইকনোমির সম্ভাবনার প্রতি আমরা আস্থাশীল। বাংলাদেশ বন্যা এবং অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলায় দৃষ্টান্তমূলক সাফল্য দেখিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে আমরা শস্য-নিবিড়করণ প্রযুক্তি এবং বন্যা-প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করেছি। এ বছর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে যে ব্যাপক বন্যা আঘাত হেনেছে আমরা তা সফলভাবে মোকাবিলা করেছি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানি বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের সদস্য হিসেবে আমি এ সংক্রান্ত সমন্বিত কর্ম-পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার প্রদান করছি। ২০১৫ সালের মধ্যে আমরা আমাদের ৮৭ শতাংশ নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছি। ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জনগণকে নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, আমরা মনে করি শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের জন্য দারিদ্র্য, ক্ষুধা, নিরক্ষরতা এবং বেকারত্ব দূর করা অত্যন্ত জরুরি।     

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের সরকার সমাজের সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নীতি নিয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম-আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে রূপান্তরের যে রূপকল্প আমরা হাতে নিয়েছি, এসডিজি তারই পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। সমৃদ্ধির বাংলাদেশ তিনি বলেন, মূলত এসডিজি গ্রহণের অনেক আগে থেকেই আমরা বেশকিছু কর্মসূচি এবং সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি যা পরবর্তীকালে এসডিজি’তেও প্রতিফলিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে: একটি বাড়ি একটি খামার, কমিউনিটি ক্লিনিক, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, সবার জন্য শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বিনিয়োগ ও উন্নয়ন।


মন্তব্য