kalerkantho


অন্তত আরেকটি শিশুকে জীবিত পাওয়ার অপেক্ষা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১০:৪৮



অন্তত আরেকটি শিশুকে জীবিত পাওয়ার অপেক্ষা

আমার কতটা কষ্ট হচ্ছে তা কারো পক্ষে কল্পনা করাও সম্ভব না। ভূমিকম্পে মেক্সিকো সিটির ধসেপড়া একটি স্কুল ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আদ্রিয়ানা ফার্গো তাঁর অপেক্ষার যন্ত্রণার কথা এভাবেই বলছিলেন। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তাঁর সাত বছর বয়সী মেয়ে আটকা পড়েছে। শিশুটি মারা গেছে না বেঁচে আছে, তা নিশ্চিত নয়। তার মতো আরো শিশু ওই ধসেপড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছে। যাদের সংখ্যা বা পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো ধারণাই দিতে পারছেন না উদ্ধারকর্মীরা। শুধু একটি বিষয় নিশ্চিত যে এদের মধ্যে কেউ কেউ ভূমিকম্পের ৪০ ঘণ্টা পার হয়ে যাওয়ার পরও বেঁচে আছে।

গত মঙ্গলবার মেক্সিকোতে ঘটা ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ২৩৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে দক্ষিণ মেক্সিকো সিটির এই স্কুলটির সাত থেকে ১৩ বছর বয়সী ২১টি শিশু এবং পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি রয়েছে। ওই স্কুলের আটকে পড়া বাকি শিশুদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। থার্মাল স্ক্যানার ব্যবহার করে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষ রয়েছে।

উদ্ধারকাজে সমন্বয়কারী কর্মকর্তা হোসে লুই ভারগারা বলেন, আমরা জানি, (ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্কুলের) নিচে একটি শিশু বেঁচে আছে। কিন্তু ওই শিশুটি বা উদ্ধারকর্মীদের জীবন ঝুঁকির মুখে না ফেলে কী করে তাকে বের করে আনা যায়, সেটাই আমরা জানি না।

মেক্সিকোতে এখন এমন অস্বস্তিকর বিবরণের অভাব নেই। অবশ্য এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে অন্তত ৫০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এদের একটা বড় অংশকে উদ্ধার করা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো থেকে আটকে পড়া ব্যক্তিরা আত্মীয়স্বজনকে খবর দেওয়ার পর।

উদ্ধার তৎপরতার সঙ্গে সাধারণ মানুষও কাজ করছে। অনেকেই আবার খাবার ও পানি দিয়ে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়তো। দেশটিতে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট বলেন, জীবন বাঁচানোই এখন সবচেয়ে বড় কাজ।  
সূত্র : এএফপি।

 


মন্তব্য