kalerkantho


কিশোরী বিয়ে করতে ভারতে আসা ৮ আরব শেখ গ্রেপ্তার!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৩:১৫



কিশোরী বিয়ে করতে ভারতে আসা ৮ আরব শেখ গ্রেপ্তার!

কিশোরীদের চুক্তিতে বিয়ে করতে ভারতে আসা ৮ আরব শেখকে হায়দরাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা শেখদের বয়স ৭০ থেকে ৮০ বা তার কাছাকাছি।

আশ্চর্য বিষয় এদের মধ্যে একজন অন্ধও রয়েছেন। হায়দরাবাদের গেস্টহাউজ ও বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজন ওমান এবং তিনজন কাতার নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজনের বয়স ৮০ কাছাকাছি। হাঁটেন লাঠির সহায়তায়। এদের সঙ্গে আটক করা হয়েছে মুম্বাইয়ের প্রধান কাজী ফরিদ আহমেদ খানকে।

এই কাজী হায়দরাবাদে চুক্তিভিত্তিক বিয়ে করান, ৫০ হাজার রুপির বিনিময়ে সার্টিফিকেট দেন। গ্রেপ্তারকৃত ওমানের নাগরিকরা হলেন আল মায়াহ আলি ইসা, আল সালেহি তালিব হুমেইদ আলি, আল ওবাইদানি জুমা শিনুন সুলাইমান, আল সালেহি নাসের খালিফ হামেদ, আল কাশিমি হাসান মাজুল মোহাম্মদ এবং কাতারের নাগরিকরা হলেন ওমার মোহাম্মদ সিরাজ আব্দাল রহমান, হামাদ জাবির ও আল-কুয়ারি ও সাফেলদিন মোহাম্মাদ সালিহ।

ফালাকনুমা বিভাগের অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশ মোহাম্মদ তাজুদ্দিন আহমেদ বলেন, তারা কিশোরীদের বাছাই করছিল। দালালরা তাদের দেখানোর জন্য গেস্টহাউজে মেয়েদের নিয়ে আসে।

তিনজন দালাল ও তিন কাজীসহ তাদের (আটজন শেখ) গ্রেপ্তার করা হয়। শেখরা কোনো মেয়েকে বিয়ের জন্য বাছাই করলে তাদের অভিভাবকদের ১ লাখ রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় দালালরা, নিজেরা রাখে ২ থেকে ৩ লাখ রুপি।  

উল্লেখ্য, ভারতের হায়দরাবাদ ও এর আশপাশ এলাকায় বিদেশি পর্যটকদের স্বল্প সময়ের জন্য চুক্তিতে কিশোরী বা অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার একটি সংস্কৃতি চালু রয়েছে। আর এই বিয়ের পাত্র হলো আরব, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা পয়সাওয়ালা শেখরা। খায়েশ মিটলে তল্পিতল্পা গুটিয়ে ফিরে যান নিজ দেশে। এসব কাজে সহায়তা করছেন স্থানীয় কাজীরা। বিদেশিদের চাহিদা মেটাতে তারাই মেয়েদের টাকার বিনিময়ে বিয়ে দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে টাকার লোভ দেখিয়ে বহু নাবালিকার অভিভাবককে প্রলুব্ধ করছেন। এ ক্ষেত্রে বিয়ে হচ্ছে চার সপ্তাহের চুক্তির মাধ্যমে।


মন্তব্য