kalerkantho


ট্রাম্পের সমালোচনা

'ভুল সময়ে ভুল দর্শকের সামনে ভুল ভাষণ'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১২:৩৬



'ভুল সময়ে ভুল দর্শকের সামনে ভুল ভাষণ'

'দুর্বৃত্তায়নের' বলয়ে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন ট্রাম্প।

তিনি তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রের তীব্র নিন্দা করেন। রাষ্ট্রনায়কদের নাম ধরে ঠাট্টা-মশকরা করতেও ছাড়েননি তিনি। এসবের তীব্র প্রতিক্রিয়া আসাই স্বাভাবিক। আর সেটাই হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পর্কে সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগোট ওয়ালস্ট্রম বলেন, 'ভুল সময়ে ভুল দর্শকের সামনে ভুল ভাষণ। ' যদিও সুইডেন প্রসঙ্গে ট্রাম্পের ভাষণে কোনো মন্তব্য ছিল না। তবে এটাই হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষণ সম্পর্কে একেবারে সাধারণ প্রতিক্রিয়া।

নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদে দেওয়া অভিষেক ভাষণে ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে বলেন, তাঁর দেশ ও বন্ধুদের রক্ষায় প্রয়োজন হলে উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে নিয়ে কৌতুক করে ট্রাম্প বলেন, 'রকেটম্যান আত্মঘাতী মিশনে নেমেছেন।

' এই ভাষণে ইরানের ক্ষমতাসীন প্রশাসনেরও তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যে পরমাণু চুক্তি করেছে তা নিয়ে তিনি বিব্রত। এ ছাড়া ট্রাম্পের ভাষণে ভেনিজুয়েলা, কিউবা, আফগানিস্তান, সুদান, সিরিয়ার শরণার্থী প্রসঙ্গ উঠে আসে। প্রায় ৪০ মিনিটের ভাষণের একটা বড় অংশজুড়ে ছিল তাঁর 'সব প্রথমে আমেরিকা' নীতির জিকির।

ট্রাম্পের ভাষণ নিয়ে উত্তর কোরিয়া গতকাল বুধবার পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে খেপেছে ইরান। এক টুইট বার্তায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, 'ট্রাম্পের অজ্ঞ, বিদ্বেষসূচক এ বক্তব্য মধ্যযুগীয়। একবিংশ শতাব্দীতে জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে এ ভাষণ দেওয়া চলে না। ইরানিদের জন্য তাঁর মায়াকান্না কোনো বোকাকেও ভোলাতে পারবে না। '

ট্রাম্পের ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সাধারণ পরিষদ কক্ষেও। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সভাকক্ষে উপস্থিত একজন দুই হাতে নিজের মুখ ঢেকে ফেলেন। ভাষণে বিস্মিত শ্রোতাদের গুঞ্জন ক্রমেই প্রবল হচ্ছিল।

ভাষণে ট্রাম্প ভেনিজুয়েলাকে দুর্নীতিগ্রস্ত 'সমাজতান্ত্রিক স্বৈরাচার' হিসেবে অভিহিত করেন। এর প্রতিবাদ জানিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ আরিজা মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে একে 'হুমকি' হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসও। ভেনিজুয়েলা সরকারের এই বন্ধু বলেন, 'ট্রাম্প পুরো বিশ্বের প্রেসিডেন্ট নন। তিনি তো নিজের সরকারই সামাল দিতে পারেন না। ট্রাম্পের মতো মাল্টিমিলিয়নেয়ার সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থরা সমালোচনা করবেন- এতে আমি অবাক হইনি। '

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। সাধারণ পরিষদে দেওয়া তাঁর অভিষেক ভাষণে ম্যাখোঁ বলেন, 'এর (চুক্তির) সমালোচনা করা গভীর ভুল। ' যদিও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সংস্কার করতে হবে অথবা একেবারে বাতিল করে দেওয়া যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র : বিবিসি, দি ইনডিপেনডেন্ট


মন্তব্য