kalerkantho


হামযা বিন লাদেন : আল-কায়েদার নতুন কাণ্ডারি?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৫:৪৩



হামযা বিন লাদেন : আল-কায়েদার নতুন কাণ্ডারি?

ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে হামযা, তার সেই শৈশবের ছবি

নাইন ইলেভেনে আমেরিকার টুইন টাওয়ারে সেই হামলার ১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি ছবি প্রকাশ করেছে আল-কায়েদা। সেই ছবিতে টুইন টাওয়ারের লেলিহান আগুনের শিখায় ওসামা বিন লাদেনের ছবি ভেসে রয়েছে দেখানো হয়।

আর সে ছবির পাশেই রয়েছে তার পুত্র হামযা বিন লাদেনের ছবি, যাকে 'জিহাদের রাজপুত্র' বলে অভিহিত করা হচ্ছে।  

এই তরুণ এখন ২৮ এর কোঠায়। বাবার তৈরি সেই সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তার পরিচয় সেই শৈশব থেকেই। এখন বিশ্লেষকরা ভাবছেন, ওসামার এই ছেলেটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের ঐক্যবদ্ধ করবেন। বিশেষ করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস এর শক্তিমত্তায় যে ভাটা চলছে, সে সুযোগটাই নিতে চাইছে আল-কায়েদা।  

কম্ব্যাট টেরোরিজম সেন্টারের (সিটিসি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এফবিআই এর সাবেক স্পেশাল এজেন্ট এবং আল-কায়েদা বিশেষজ্ঞ আলি সৌফান লিখেছেন, বিশের কোঠা পার করছেন হামযা। বাবার গড়ে তোলা সংগঠনের নেতৃত্বের হাল ধরতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুত্র। বিন লাদেন সাম্রাজ্যের একজন সদস্য হিসাবে হামযাকে আল-কায়েদার মিলিটারি সাদরে গ্রহণ করে নেবে। আইএস এর পতনের এই ক্ষণে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসীদের এক করতে হামযাকেই সেরা ব্যক্তিত্ব বলে মনে করছেন অনেকে।

 

বিজয় কিংবা শহীদের সম্মান 
বিল লাদেনের ২০ সন্তানের মধ্যে ১৫তম হামযা। তিনি ওসামার তৃতীয় স্ত্রীর ঘরের ছেলে। শৈশব থেকেই তিনি বাবার পদচারণা অনুসরণ করে আসছেন। নাইন ইলেভেনের আগে আফগানিস্তানে তিনি বাবার সঙ্গেই ছিলেন। আমেরিকান, ইহুদি আর ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে কচি কণ্ঠে কথা বলতেন তখন। সেই ভিডিও তুলতেন অনলাইনে।  

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার আর পেন্টাগনে হামলার প্রাক্কালে হামযাকে তার বাবার কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। আর কখনও দেখা হয়নি তাদের। লাদেন বংশের স্ত্রী এবং অন্য সন্তানদের সঙ্গে তিনি আফগানিস্তানের জালালাবাদ এবং সেখান থেকে ইরানে নিরাপদে অবস্থান করেন। ইরানে তাদের গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়। কিন্তু কোথায় তা কেউ জানে না।  
 
সূক্ষ্ম কৌশলে সংবাদবাহকরা বাবা আর হামযার মধ্যে যোগাযোগ করে দিতেন। হাতে লেখা চিঠির লেনদেন হতো যার কিছু অ্যাবোটাবাদে মিলেছে।  

২০১৫ সালের আগস্টে এক অডিও বার্তায় হামযা তার 'শহীদ' বাবা এবং বড় ভাই খালিদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। তারা বিশ্বজুড়ে বিদ্রোহীদের কাবুল থেকে বাগদাদ, গাজা থেকে ওয়াশিংটন, লন্ডন, প্যারিস এবং তেল আবিবে হামলার আহ্বান জানান।  

এর এক বছর পর তিনি 'আমরা সবাই ওসাবা' শ্লোগানে তিনি প্রতিশোধের ডাক দেন। এর ১৮ মাস পর ইউএস এর স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার নামটি 'আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী'দের তালিকায় লিখে নিয়েছে। সূত্র : ডন 


মন্তব্য