kalerkantho


রোহিঙ্গা সঙ্কটে বাংলাদেশের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র: হাসিনাকে ট্রাম্প

সাবেদ সাথী, জাতিসংঘ থেকে    

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১২:৩৫



রোহিঙ্গা সঙ্কটে বাংলাদেশের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র: হাসিনাকে ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সঙ্কটে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার দুপুরে জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘জাতিসংঘের সংস্কার, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক উচ্চ পর্যায়ের সভার ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।  

এ ব্যাপারে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, 'ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছেন, কীভাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করা যায় তা যুক্তরাষ্ট্র দেখবে। ' 

বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন চলছে তাও ট্রাম্প জানতে চান। এ সময় শেখ হাসিনা ‘ভাল করছে’ বললে ট্রাম্প সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানান শহীদুল হক। তিনি আরো জানান, জাতিসংঘের সংস্কার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সভার পাশাপাশি ট্রাম্পের সঙ্গে ওই পার্শ্ব বৈঠক হয় শেখ হাসিনার।  

হাসিনা-ট্রাম্প আলোচনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, মিয়ানমার ইস্যুতে আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি। অ্যান্ড উই সি হাউ ইট ক্যান বি রিজলভড’।  

তিসংঘের সংস্কারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত এক সভায় যোগদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  এতে সংস্থাটির ৭২তম অধিবেশনে আগত ১৯৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা যোগ দেন।

এ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত সবার সঙ্গে হাত মেলান ও কুশল বিনিময় করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এসে ট্রাম্প থেমে যান এবং কুশল বিনিময়সহ তিনি কিছুক্ষণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।

ওই সভা শেষে ‘যৌন হয়রানি ও অপব্যবহার রোধ’ শীর্ষক এক বৈঠকে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তিনি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গেও কথা বলেন। একইদিন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টবগে এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে তাঁর।
                                                                                     
‘যৌন হয়রানি ও অপব্যবহার রোধ’ শীর্ষক বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের ব্যাপারে পাওয়া দুইটি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করেছে।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা প্রায় সব মিশনেই সবসময়ই ভালো ইমেজ এবং বিশ্বাসযোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে। শুধু একজন অপরাধীকে সামরিক বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

‘জাতিসংঘের সংস্কার: ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন’ শীর্ষক সভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমলাতন্ত্র ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিসংঘ পুরোপুরি সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারেনি। ’

সভায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা পুরো ব্যবস্থার প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিবের দেখভালের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি। আমরা জাতিসংঘের উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো করার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি। আমরা এমন এক জাতিসংঘ চাই, যেখানে সারা বিশ্বের মানুষের আস্থা থাকবে। আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে ব্যবস্থাপনা হালনাগাদ করতে হবে এবং জাতিসংঘের মূল মিশনকে এগিয়ে নিতে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ’ 

সভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী উপস্থিত ছিলেন।  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী এ অধিবেশনে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন। তিনিই বাংলাদেশের একমাত্র সরকার প্রধান, যিনি পর পর ৯ বার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার নজির স্থাপন করলেন।

এ ছাড়াও আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিবের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই দিনে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের সভাপতিত্বে ‘উইমেন্স ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট ফর লিভিং নো ওয়ান বিহাইন্ড’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নেবেন এবং রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের বৈঠকে যোগ দেবেন। তা ছাড়াও সন্ধ্যায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ও কমনওয়েলথের বর্তমান চেয়ার-ইন অফিস মাল্টার প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মাসকেট আয়োজিত কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। পরে ম্যাডিসন অ্যাভিনিউয়ের প্যালেস হোটেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

এও জানা গেছে, ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পরমাণু অস্ত্রনিরোধ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। ‘এসডিজি ইমপ্লিমেন্টেশন, ফাইন্যান্সিং অ্যান্ড মনিটরিং: শেয়ারিং ইনোভেশনস থ্রু সাউথ-সাউথ অ্যান্ড ট্রাইয়াঙ্গ্লুার কো-অপারেশন’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন তিনি। ইউএনডিপি ও ইউএন অফিসের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

এ ছাড়াও একই দিনে ‘ক্রিয়েটিং এ পলিসি ভিশন ফর এসডিজি ফাইন্যান্স: ফ্যাসিলিটেটিং প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট ইন দ্য এসডিজি’স শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং (বিসিআইইউ) আয়োজিত একটি মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন তিনি। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন নিয়ে ইথিওপিয়ার প্রতিনিধিদল আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের উন্মুক্ত আলোচনাতেও এদিন যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

উল্লেখ্য, এবারের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী অং সান সু কি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

  


মন্তব্য