kalerkantho


কাতারের ওয়েবসাইট হ্যাকের পেছনে আরব আমিরাত : মার্কিন সংস্থা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জুলাই, ২০১৭ ১৩:২৬



কাতারের ওয়েবসাইট হ্যাকের পেছনে আরব আমিরাত : মার্কিন সংস্থা

ফাইল ফটো

কাতার সংকটের অন্যতম উপাদান দেশটির সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের ঘটনা। আর এ ঘটনার পেছনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে তেমনটাই জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

কাতারের সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। আর এ হ্যাকিংয়ে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির ভুয়া বক্তব্য সংযুক্ত করা হয় ওয়েবসাইটে। এ ঘটনায় কাতার সংকটের সূত্রপাত হয়।

মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হয়েছেন যে, ২৩ মে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কয়েকজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এক সভায় এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে এ হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি সরাসরি আরব আমিরা ঘটিয়েছে নাকি অন্য কাউকে দিয়ে করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হ্যাকিংয়ের পর কাতারের আমিরের মন্তব্য সংবলিত একটি সংবাদ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার ওয়েবাসইটে আপলোড করা হয়। সে মন্তব্য প্রকাশিত হলেই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ কাতারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

এর পরই কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ অন্যান্য জঙ্গি দলগুলোকে সমর্থন ও সহযোগিতা দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে কাতার উত্তেজনা সৃষ্টি করছে, এই অভিযোগে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইয়েমেন।
 
তবে এই সম্পর্ক ছিন্নকারী দেশগুলোর অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় দোহা বলেছে, ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ওই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে এবং এটি অন্যায্য সিদ্ধান্ত।

হঠাৎ সম্পর্কচ্ছেদ ও অবরোধের ঘোষণা হঠাৎ এলেও, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কাতারের সম্পর্কের টানাপড়েনের শুরু কয়েক বছর আগে।

২৫ মে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আল জাজিরা নেটওয়ার্কসহ কাতারের সংবাদ বিষয়ক সকল ওয়েবসাইট ব্লক করে দেয় এই চারটি দেশ। বিতর্কিত ওই ঘটনায় দেখা যায়, কাতারের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে আমির সৌদি আরবের সমালোচনা করেছেন।

সে প্রতিবেদনে আমিরকে উদ্ধৃত করে আরো বলা হয়, তিনি ইরানের প্রতি আরব দেশগুলোর বিরোধিতার সমালোচনা করছেন।

এ ঘটনার পরে কাতার তখন দাবি করে পুরো ঘটনাটি ভুয়া। কারণ রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা হ্যাক হয়েছিল এবং ওই খবর সাইটটি হ্যাক হবার পর প্রকাশিত হয়েছিল বলেও দাবি করে কাতার। তবে কাতারের সে দাবিকে পাত্তা দেয়নি সৌদি জোট।

এ ছাড়া কাতারের বিরুদ্ধে আরও মারাত্মক দুটি অভিযোগ হলো, জঙ্গি সংগঠনসমূহের সঙ্গে কাতারের সংযোগ, ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে সৌদি আরবের প্রতিপক্ষ ইরানের ভূমিকা।

আইএস গোষ্ঠীকে ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটে কাতার যোগ দিয়েছে ঠিকই। তবে, সেই সঙ্গে ইরাকের শিয়া নেতারা অভিযোগ করে আসছিলেন যে কাতার আইএসকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। যদিও এ অভিযোগও অস্বীকার করেছে কাতার।
সূত্র : দ্য পেনিনসুলা কাতার


মন্তব্য