kalerkantho


জাতীয় নিরাপত্তার জন্য স্থগিত হল ট্রাম্পের পর্যটন নীতি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০৪:১৪



জাতীয় নিরাপত্তার জন্য স্থগিত হল ট্রাম্পের পর্যটন নীতি

ফের আদালেত ধাক্কা খেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর্যটন নীতি। তার নির্দেশ স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাওয়াই জেলা আদালতের বিচারপতি ডেরিক ওয়াটসন।

৪৩ পৃষ্ঠার রায়ে ট্রাম্পে এবং তার সহকারীদের মন্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে আদতে একটি বিশেষ ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ তৈরি করতেই যে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। সংবিধান লঙ্ঘন করে বৈষম্যে ইন্ধন জোগানোই উদ্দেশ্য। ট্রাম্প অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।  

রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এমন রায় দেওয়া হয়েছে বলে ন্যাশভিলে আয়োজিত এক সভায় দাবি করেন তিনি। বলেন, আগের নির্দেশিকাটা চালু রাখলেই বোধহয় ভাল হতো। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন নির্দেশি দিয়েছি। পিছু হটার প্রশ্নই ওঠে না। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে দরজায় কড়া নাড়তে প্রস্তুত। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মতো ক্ষমতায় এসেই ইরাক, ইরান, সিরিয়া, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন এই সাত মুসলিম অধ্যুষিত দেশের নাগরিকদের মার্কিন মুলুকে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে আগত শরণার্থীদের প্রবেশেও রাশ টানতে নির্দেশ দেন তিনি।  

প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই দেশ জুড়ে ধর পাকড় শুরু হয়। বিমানবন্দরে আটকানো হয় বহু যাত্রীকে। নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ মিছিল চলছিলই। মুসলিমদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বসানোয় আগুনে ঘি পড়ে। বিদ্বজনেরা তো বটেই, রাস্তায় নামেন তারকা–শিল্পীরাও। পরিস্থিতি বুঝে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ দেয় ওয়াশিংটন আদালত। বাধ্য হয়ে গত ৬ মার্চ নির্দেশিকায় সংশোধন করেন ট্রাম্প। নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তালিকা থেকে ইরাককে ছেঁটে ফেলেন। বাকি ছ’টি দেশের নাগরিক এবং শরণার্থীদের ওপর আগের মতোই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়। তবে তাতেও সায় মেলেনি। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার বিরুদ্ধে মেরিল্যান্ড, ওয়াশিংটন ও হাওয়াই সহ প্রায় আধ ডজন রাজ্য আদালতের দ্বারস্থ হয়। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মতো মুসলিমদের প্রবেশ রুখতেই ট্রাম্প এমন নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

সুত্রঃ আজকাল


মন্তব্য