kalerkantho


জরুরি নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ মুম্বাই বিমানবন্দর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ মার্চ, ২০১৭ ২৩:২৬



জরুরি নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ মুম্বাই বিমানবন্দর

নিরাপদ নয় ‌ব্যস্ততম বিমানবন্দর মুম্বাই। কতটা নিরাপদ ছত্রপতি শিবাজী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তা জানতে একটি বিমানে ভুয়া আগুন লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়।

সেখানেই উঠে আসে নিরাপত্তার ফাঁক-ফোঁকড়। বৃহস্পতিবার ‘‌ব্ল্যাক প্যান্থার’ নামে এক বিমানে আগুন লাগার মহড়া‌য় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়। এই মহড়ার পর উঠে আসে বিমানবন্দরের জরুরি সমস্যাগুলিও। ‘‌ব্ল্যাক প্যান্থার’ নামে ওই বিমানে ১৭০ জন ডামি যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৮ জনই আগুনে পুড়ে মারা গেছে। পুরো ঘটনা নিয়ে ‘‌অপারেশন ব্ল্যাক প্যান্থার’ রিপোর্ট জমা পড়েছে। সিআইএসএফ-এর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই মহড়ার পর বোঝা গেল বিমানবন্দরে জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হলে বিমানবন্দরের সব বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। প্রচুর সমস্যা ধরা পড়ল এই মহড়ায়। ’‌ মুম্বাই বিমানবন্দরের এক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘‌প্রোটোকল অনুযায়ী আমাদের কর্তৃপক্ষকে হতাহতের বিষয়টা জানাতে হবে। অন্য সমস্যাগুলো আমরা শুধুমাত্র বিমান কর্তৃপক্ষকেই জানাবো, এটা জনসাধারণের জানার বিষয় নয়। ’

বিমানবন্দরের এই ব্যর্থতায় অত্যন্ত হতচকিত প্রাক্তন বিমান চালক ও বিমান বিশেষজ্ঞ বিপুল সাক্সেনা বলেন, ‘আমি খুব চিন্তিত মুম্বাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে। বাস্তবে যদি কোনো জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হয় আদৌ কী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংস্থা তা সামাল দিতে পারবে?‌ আমি দাবি করছি ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশনকে (‌ডিজিসিএ)‌ বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার জন্য। ’‌
 
হংকং-এর বিমান সংস্থা ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারলাইনসের একটি বিমানের ওপর এই পরীক্ষা করা হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কৃত্রিমভাবে বিমান বিপর্যয় ঘটানো হয়। এই মহড়ায় মুম্বাই বিমানবন্দরের বিভিন্ন নিরাপত্তা বিভাগ (‌আগুন ও জরুরি পরিষেবা)‌, টার্মিনালস, এয়ার সাইড অপারেশনস, ইঞ্জিনিয়ার, নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পরিষেবা সকলেই এই মহড়ায় তাদের দক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হয়। শুধু তাই নয়, এই মহড়ায় মুম্বইয়ের ১০টি হাসপাতাল, ১৬টি অ্যাম্বুলেন্স, সরকারি সংগঠন-অভিবাসন, কাস্টম, সিআইএসএফ, পুলিশ ও বির্পযয় মোকাবিলা দপ্তরও অংশ নেয়। ৮০০ জন স্বেচ্ছাসেবক এই মহড়াতে আহত যাত্রী, বিমান কর্মীর ভূমিকায় অভিনয় করেন।

আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান সংগঠন ও ডিজিসিএ যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রতিটি বিমানবন্দরে দু’বছরে একবার এই ধরনের মহড়া হবে। যাতে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টা বোঝা যায়।

সূত্র: আজকাল


মন্তব্য