kalerkantho


বন্ড পেতে করতে হবে শারীরিক সম্পর্ক: প্রস্তাব তৃণমূল নেতার!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ মার্চ, ২০১৭ ১১:৫৫



বন্ড পেতে করতে হবে শারীরিক সম্পর্ক: প্রস্তাব তৃণমূল নেতার!

এক মহিলাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠল জলপাইগুড়়ির তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতা অনন্ত রায়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই মহিলাকে আলুর বন্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে শারীরিক সম্পর্ক গড়়ার প্রস্তাব দেন ওই নেতা। শালবাড়ি এলাকার এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ধুপগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ওই মহিলার স্বামী কেরালায় কাজ করেন। দুই ছেলেকে নিয়ে পশ্চিম শালবাড়িতে থাকেন তিনি। বাপের বাড়ি জটেশ্বরে। সেখানেই আলু চাষ করেছিলেন। আলু রাখার জন্য বন্ডের প্রয়োজন। কিন্তু, প্রশাসনিক নির্দেশ মতো যে পরিমাণ বন্ড দেওয়া হচ্ছে তাতে তাঁর সমস্যা মিটবে না। এছাড়া জমির কাগজপত্রও নাকি তাঁর কাছে নেই। তখন আশপাশের লোজনের কাছে শোনেন যে অনন্ত নামে ওই তৃণমূল নেতা আলুর বন্ড বিক্রির দায়িত্বে রয়েছেন।

তাই,  ৬ মার্চ গাদং পঞ্চায়েত অফিসের সামনে অনন্ত রায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। বলেন, “কাগজপত্র ছাড়াই যদি আলুর বন্ডের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় তাহলে খুব সুবিধা হবে।

অভিযোগকারিণীর দাবি, অনন্ত জিজ্ঞাসা করে, তোর কত প্যাকেট আলুর বন্ড দরকার? আমি বলি, তিন গাড়়ি আলু রয়েছে। তা রাখলে ভালো হয়। অনন্ত বলে, তোর কোনও চিন্তা নেই। সব হয়ে যাবে। কিন্তু, এযুগে কেউ এমনি কাজ করে না। তাই, আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। ১০ গাড়ি আলুর বন্ড দেওয়ার আশ্বাসও দেয়। মহিলা বলেন, এই কথা শোনামাত্রই আমি খুব রেগে যাই। কিন্তু, কিছু করিনি। কারণ, ও নেতা। আমার অভিযোগ কেউ বিশ্বাস করবে না। তাই, একটি দোকান থেকে মোবাইলে কথা রেকর্ড করা শিখি। তারপর অনন্তকে আবার ফোন করি। ও একই কথা বলে। এরপর মোবাইলের কথোপকথন জমা দিয়ে ধুপগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

মহিলার অভিযোগ, পুলিশও প্রথমে অভিযোগ জমা নিতে চায়নি। বলে, আমি নাকি শারীরিক প্রস্তাবের চান্স দিয়েছি। তাই, ও এরকম প্রস্তাব দিতে পেরেছে। এদিকে, অভিযুক্ত অনন্ত রায় জানান, তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। তৃণমূলেরই জয়হিন্দ বাহিনীর সদস্যরা ফাঁসাচ্ছে। ওই মহিলা জয়হিন্দ বাহিনীর সদস্য। তাঁর সঙ্গে কোনওরকম কথোপকথন হয়নি। গোটা ঘটনাটি তৃণমূলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তৃণমূল জেলা সহ সভাপতি অশোক বর্মন বলেন, আমি শুনেছি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে দল ব্যবস্থা নেবে। জয়হিন্দ বাহিনীর এক নেতা বলেন, আমাদের বদনাম করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার সঙ্গে আমরা কোনওভাবে যুক্ত নয়।

 


মন্তব্য