kalerkantho


মেয়েদের মুখে ভাত তুলে দিতে ...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ মার্চ, ২০১৭ ০১:১৩



মেয়েদের মুখে ভাত তুলে দিতে ...

খুব কষ্ট হতো প্রথমদিকে। ছুটে পালাতেন।

খেতে পারতেন না। ঘুম আসত না রাতে। এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। দক্ষ‚ অভ্যস্ত হাতে শুইয়ে দেন পরম মমতায়। মানুষকে তার চির বিশ্রামের আশ্রয়ে। গত ১৩ বছর ধরে অন্তত ৫ হাজার মানুষকে এভাবেই শুইয়েছেন এই রমণী। জি চন্নামা। চার মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বাধ্য হয়ে হতে হয়েছিল সমাধি খননকর্মী।

তরুণী চন্নাম্মার বিয়ে হয়েছিল গণেশের সঙ্গে।

ভারতের কর্নাটকের কোলার থেকে এসে সংসার পেতেছিলেন হনুমন্তপুরায়। স্বামী ছিলেন শ্রীরাম পুরা হিন্দু সমাধিক্ষেত্রের কর্মী। ভুলেও স্বামীর কাজের জায়গার ধারপাশে যেতেন না চন্নাম্মা। এত ভয় পেতেন।

২০০০ সালে গণেশের আকস্মিক চলে যাওয়া বদলে দিল সব। একাজ ওকাজ করার পরে চার মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে চন্নাম্মা অপারগ হয়ে স্থির করলেন স্বামীর কাজই করবেন।

একজন মহিলাকে কবর খোঁড়ার কাজে বহাল করতে নিমরাজি ছিল প্রশাসন। কিন্তু চন্নাম্মার অনুরোধে সম্মত হয় জেলা প্রশাসন। বেতন ধার্য হয় প্রতি মাসে হাজার টাকা।

সেই থেকে সমাধি খুঁড়ে আসছেন চন্নাম্মা। নইলে সংসারে দুটো ভাত আসবে কোথা থেকে !

পরিবারের অনেকেই বলেছে সরে আসতে। কিন্তু চন্নাম্মা অন্যত্র যেতে চান না। যে কাজ তাঁকে বিপদে খড়কুটো অবলম্বন দিয়েছে‚ সেই জীবিকা ছাড়তে চান না তিনি। কোদাল-বেলচা চালিয়ে খুঁড়ে যেতে চান ৬ ফিট বাই ৩ ফিট গর্ত। মনে করেন‚ এটা কোনও নিছক পেশা নয়। বরং সেবা। মানুষকে শেষ যাত্রায় সাহায্য করেন তিনি।

- ইন্টারনেট


মন্তব্য