kalerkantho


ভারতে প্রথম হামলা চালাল আইএস! উচ্চ সতর্কতা জারি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ মার্চ, ২০১৭ ১৫:৫৮



ভারতে প্রথম হামলা চালাল আইএস! উচ্চ সতর্কতা জারি

অনেক দিন ধরেই ভারতে নিজেদের সংগঠন বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছিল জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস। এবারে ছোট একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভারতে তাদের উপস্থিতি জানান দিল কুখ্যাত এই জঙ্গি গোষ্ঠী।

মঙ্গলবার সকালে ভোপাল-উজ্জয়ন প্যাসেঞ্জার ট্রেনে একটি ছোট বিস্ফোরণে দশজন যাত্রী আহত হন। ভারতে এটি প্রথম আইএস হামলা বলে জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

মধ্যপ্রদেশের শাজাপুরে এই হামলার পরেই মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে সন্দেহভাজন ছয় আইএস জঙ্গিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের জেরা করে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের ঠাকুরগঞ্জ এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এনকাউন্টারে সইফুল্লা নামের এক জঙ্গিকে খতম করে এটিএস এবং এনএসজি কম্যান্ডোরা। প্রায় এগারো ঘণ্টা ধরে এই এনকাউন্টার চলে।

মৃত ওই আইএস জঙ্গির ঘরের ভিতর থেকে আটটি স্বয়ংক্রিয় বন্দুক, বোমা বানানোর সরঞ্জাম এবং প্রায় সাড়ে ছয়শো রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও বাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে আইএস-এর পতাকা, পাসপোর্ট। মৃত জঙ্গির আরো দুই সঙ্গীর খোঁজ করছে পুলিশ।

আইএস জঙ্গি গোষ্ঠীর যে মডিউল-এর সদস্যরা ট্রেনে এই হামলা চালিয়েছে, তাদেরকে এমন হামলা চালানোর জন্য সরাসরি কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন তদন্তকারীরা।

গোটা ঘটনায় যথেষ্ট উদ্বিগ্ন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তর প্রদেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে রিপোর্টও পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার পরেই দিল্লি, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটের মতো রাজ্যে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রেলেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।

গত এক বছরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আইএস-এর নিয়োগ করা প্রায় ষাটজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে বিভিন্ন নিরাপত্তা এজেন্সি। এবারে সরাসরি ভারতে এই কুখ্যাত জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারাও উদ্বিগ্ন।

এক শীর্ষ গোয়েন্দাকে উদ্ধৃত করে একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রে দাবি করা হয়েছে, প্যাসেঞ্জার ট্রেনে ছোট বিস্ফোরণ আসলে আইএস-এর ট্রায়াল রান। ভবিষ্যতে ভারতে তারা বড়সড় হামলার ছক করছিল বলেই মনে করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। ধৃতদের জেরা করে ভারতে তাদের মগজধোলাই কারা করেছে, সেই আইএস শীর্ষ জঙ্গিদের নাগাল পেতে চান তদন্তকারীরা। সেই কারণেই লখনউ থেকে সইফুল্লাকে জীবিত অবস্থায় ধরার চেষ্টা করে এটিএস। কিন্তু লঙ্কার গুঁড়ো মেশানো বোমা, কাঁদানে গ্যাস ফাটিয়েও তাকে আত্মসমর্পণ করাতে পারেনি পুলিশ। উল্টে পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রায় পঞ্চাশ রাউন্ড গুলি চালায় সে।

দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরুর মতো শহরে এর আগেও হামলার ছক কষেছিল আইএস। কিন্তু সেই সমস্ত হামলার ছকই বানচাল করে দিয়েছিলেন দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

সূত্র : এবেলা


মন্তব্য