kalerkantho


সামরিক শক্তিতে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চাইছে জার্মানি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ মার্চ, ২০১৭ ১৩:১২



সামরিক শক্তিতে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে চাইছে জার্মানি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুগে নিজের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে জার্মানি। উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা নিজেদের ঘাড়ে তুলে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন।

যদিও ট্রাম্প প্রশাসন ন্যাটোর পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। তারপরও জার্মানির চেয়ে আর কোনো দেশই এত বেশি চাপ অনুভব করছে না। আর সে কারণেই নিজের প্রতিরক্ষার প্রতি ব্যাপক জোর দিচ্ছে জার্মানি।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস যে লক্ষ্যে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ দিচ্ছে, তা যদি পূরণ হয় তাহলে পশ্চিম ইউরোপের সর্ববৃহৎ সামরিক শক্তি হওয়ার পথে দ্রুতই ধাবমান হবে জার্মানি। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার যে, জার্মানি হচ্ছে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউস। সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে জার্মানির পুনর্জাগরণ এতদিন জার্মান নাগরিকরাই ঠেকিয়ে রেখেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর পরাজয়ের পর সমরবাদকে ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে জার্মানরা। তবে প্রায় ৭ দশক পরে একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে জার্মানদের চিন্তা দ্রুতই পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আন্তআটলান্টিক নীতির পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রে গত বছরের নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকে ট্রাম্পের আমেরিকা ও ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়ার মাঝে পড়ে জার্মানরা নিজেদের কম নিরাপদ মনে করছে। দুই দিকের চাপ সামলাতে তাই জার্মানরা নতুন করে সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলার চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে। আর এটা তারা এমনভাবে করতে চাচ্ছে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর থেকে যা কমই দেখা গেছে।

নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি ন্যাটো জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার প্রতি জোর দিচ্ছে জার্মানি। এর অংশ হিসেবে লিথুয়ানিয়ায় রাশিয়া সীমান্তের কাছে বাভারিয়ান কমব্যাট ব্যাটালিয়ানসহ ৫০০ জার্মান সৈন্য মোতায়েন করেছে জার্মানি।
এ সৈন্য সমাবেশকে বিশ্লেষকরা স্নায়ুযুদ্ধের পর জার্মানির সর্বাধিক উচ্চাভিলাষী সামরিক কর্মকাণ্ড বলে বর্ণনা করেছেন। ২০টি সশস্ত্র সাজোয়া যান, ৬টি লিওপার্ড ট্যাংক ও ১২টি সেনা বহনকারী গাড়ি নিয়ে এ সৈন্য সমাবেশ জার্মান বাহিনীর একটি সমীহজাগানিয়া প্রদর্শনী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। লিথুয়ানিয়ার জার্মান বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল টর্সটেন স্টিফান বলেন, ট্রাম্প বলেছেন 'ন্যাটো সেকেলে হয়ে গেছে এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের আরও স্বাধীন হওয়া প্রয়োজন। বেশ, হয়ত সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে আমরা স্বাধীন হতে যাচ্ছি। ' জার্মানদের নেতৃত্বে এ সৈন্য সমাবেশের মধ্যে বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ের কিছুসংখ্যক সৈন্য রয়েছে। আর এটা করা হয়েছে ইউরোপ থেকে পুতিনের কাছে একটা শক্তিশালী বার্তা পাঠানোর জন্য।

রাশিয়াপন্থী সংবাদ মাধ্যমগুলো লিথুনিয়ায় ন্যাটো সৈন্য সমাবেশকে জার্মানির 'দ্বিতীয় আগ্রাসন' হিসেবে দেখছে। আজ থেকে ৭ দশক আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাডলফ হিটলার দেশটিতে প্রথম সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছিলেন। সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জার্মান কর্তৃপক্ষ যে সময় চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে, তখন বহু জার্মানই এর বিপক্ষে। অতিরিক্ত ব্যয় ও নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা উসকে দেওয়ার একটা ভয় তাদের মধ্যে কাজ করছে। চলতি বছর স্টার্ন ম্যাগাজিনের চালানো এক জরিপে দেখা যায়, ৫৫ ভাগ জার্মান প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিপক্ষে। অন্যদিকে শতকরা ৪২ ভাগ নাগরিক এর পক্ষে মত দিয়েছে।
সম্প্রতি জার্মান বাহিনী পোল্যান্ড ও পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলে বেশ কয়েকটি সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু ভয়ানক মিশন শুরু করেছে তারা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আফগানিস্তান ও বলকান রাষ্ট্রগুলোতে এবং গত বছর মালিতে সৈন্য সমাবেশ। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের বিরুদ্ধেও ন্যাটো জোটের অংশ হিসেবে ভূমিকা রাখছে জার্মানি। ট্রাম্পের বিজয়ের পর থেকে জার্মান রাজনীতিক, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যম অধিক শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত মাসে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী জার্মানির বর্তমান সেনাবাহিনীর সংখ্যা ২০২৪ সাল নাগাদ ২ লাখে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত জার্মান সেনা সংখ্যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ ছিল। এ ছাড়া গত ২৬ বছরের মধ্যে চলতি বছরে জার্মানির সামরিক বাজেট শতকরা ৮ ভাগ বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলও সামরিক ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী উর্সুলা ভনডার লিয়েন সম্প্রতি বলেছেন, সামরিক দায়-দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে থাকতে পারে না জার্মানি।
সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট


মন্তব্য