kalerkantho


রেলের কামরায় যে যুবতীর সম্মান রক্ষা করেছিলেন মোদি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ মার্চ, ২০১৭ ১৫:১৮



রেলের কামরায় যে যুবতীর সম্মান রক্ষা করেছিলেন মোদি

ঘটনাটি ১৯৯০ সালে। অর্থাৎ ২৭ বছর আগের।

রেলের নিয়োগ পরীক্ষা দিতে লখনউ থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন দুই যুবতী। ট্রেনের কামরায় ১২ ছেলে তাদের দিকে অস্বস্তিকর দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল। ওই সব ছেলেদের কাছে কোনো রিজার্ভেশন ছিল না। তারা এই যুবতীদের সরিয়ে সেই জায়গায় ব্যাগ-পত্র রাখতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, তাদের লক্ষ্য করে অশ্লীল ভাষাও ছুড়ে দিতে থাকে, যাতে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে যান ওই দুই যুবতী।  

কোনো ভাবে রাতটা পার করেন তারা। পরের দিন আরও একটা ট্রেন সফর। এবার দিল্লি থেকে গুজরাট। একজন ভয়ে দিল্লিতেই রয়ে গেলেন।

অপর যুবতী ট্রেনে উঠলেন, তবে ছিল না কোনো রিজার্ভেশন। ওই যুবতীর সঙ্গে যোগ দেন আরও একজন। টিকিট ওয়েটিং লিস্ট থাকার কারণে ভীষণ ভয় পাচ্ছিল তারা। স্টেশনে পৌঁছে তারা ছুটল চার্ট দেখতে কিন্তু কিছুই লাভ হলো না কারণ টিকিট কনফার্ম হয়নি। কর্মরত টিটিকে জানাল তাদের অসুবিধার কথা, টিটি বলল ট্রেনে উঠে বসতে পরে যদি কিছু করা যায়।

রাতের সফর। তার ওপর আগের ট্রেনে তাদের ভীষণ খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাই ভয়ে একটা কামরায় উঠে বসল তারা, তাদের সামনের সিটে দুজন ব্যক্তি বসেছিল ওদের ওপর চোখ পড়তে আরও ভয় করতে লাগল কে জানে এরাও সেই আগের ট্রেনের লোকদের মতো কিনা? ওই দুই ব্যক্তির চোখে ওদের অস্বস্তি ধরা পড়ল। অবশেষে টিটি এসে জানাল কোনো সিট খালি নেই এই সিট দুটো ও পরের স্টেশনে ভরে যাবে। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা তাদের তখন। কিন্তু কিছু করার কোনো উপায় নেই।

এমন সময় ওই দুই ভদ্রলোক উঠেপড়ে সিট ছেড়ে দেন। কিছুক্ষণ পর তারা ফিরে এসে কামরার মেঝেতে একটা চাদর পেতে শুয়ে পড়েন। সকালবেলা হকারদের শব্দে ওদের ঘুম ভাঙে। সেই সময় তাদের মধ্যে এক যুবক বলে ওঠেন, 'বোন আপনাদের কোনো অসুবিধা হয়নি তো? আর গুজরাটে কোনো দরকার পড়লেও নির্দ্ধিধায় জানাবেন। ' এই কথা শোনার পর ওই দুই যুবতী আশ্বস্ত হন। এরপর একজন যুবতী তার পেন ও ডায়েরি দিয়ে সেই দুই সহযাত্রীকে বলে ওদের নাম ও ঠিকানা লিখে দিতে। ওই দুই যুবক ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার পর তারা দেখেন দুই যুবকের নাম নরেন্দ্র মোদি ও শঙ্কর সিং বাঘেলা।

সেই যুবতী আজ ভারতীয় রেলের ইনফর্মেশন সিস্টেমের জেনারেল ম্যানেজার। লীনা শর্মা। ঘটনার বছর পাঁচেক পর অাসামের এক সংবাদপত্রে এই গল্পটি লিখেছিলেন তিনি। লীনার কাছে তখন মোদি কিংবা বাঘেলা, দুজনই অপরিচিত মুখ। এরপর বাঘেলা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হন, পরে নরেন্দ্র মোদিও মুখ্যমন্ত্রী হন। তবে একদিন যে সেই নরেন্দ্র মোদিই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন সে কথা ভাবেননি রেলের এই অফিসার। মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর 'The Hindu' পত্রিকায় এই গল্পটি লেখেন তিনি। শিরোনাম ছিল A train journey and two names to remember. আজও যতবার টিভিতে দেখেন মোদিকে সে দিন রাতের সেই ব্যবহারের কথা ভুলতে পারেন না তিনি।


মন্তব্য