kalerkantho


কেমন আছেন নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ'র বংশধররা?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৭ ২০:৩৯



কেমন আছেন নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ'র বংশধররা?

যব ছোড় চলে লখনৌ নগরী …

শুধু নগরী নয়। তাঁকে ছেড়ে চলে আসতে হয়েছিল প্রাণের চেয়ে প্রিয় অওয়ধ। নবাবি চলে যাওয়ার মুহূর্তেও চোখে জল আসেনি। কারণ মনে করতেন‚ একমাত্র সঙ্গীত এবং কবিতাই প্রকৃত পুরুষের চোখে জল আনতে পারে। তিনি অওয়ধের শেষ নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ।

তিনি অওয়ধ ছেড়ে চলে এলেও অওয়ধ তাঁকে ছেড়ে যায়নি। নির্বাসনের শহর কলকাতায় বানিয়েছিলেন লখনৌয়ের ছোট সংস্করণ। তাঁর হাত ধরেই কলকাতায় আসে বিরিয়ানি।

ওয়াজিদ আলি শাহ-য়ের জন্ম ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে। সিংহাসনে বসেছিলেন ১৮৪৭-এ। ৯ বছর পরে সিংহাসনচ্যুত।

১৮৫৮-এ নির্বাসনে কলকাতার গার্ডেন রিচের বিচালি ঘাটে। ব্রিটিশ কলকাতার অভিজাত উদ্যান-এলাকায় নবাবের মতোই থাকতেন তিনি। নির্বাসনেও বার্ষিক উপার্জন ছিল কয়েক লক্ষ টাকা। ৩১ বছর নির্বাসনে কাটাবার পরে তাজ হারানো এই নবাব কলকাতায় প্রয়াত হন ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে।

পরবর্তীকালে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত‚ কলকাতায় এখনও আছেন তাঁর উত্তরসূরীরা। তালবাগানে শাহেবজাদে ওয়াসিফ মির্জার দাবি‚ তাঁরা ওয়াজিদ আলি শাহ-এর বংশধর।

লখনৌয়েও আছেন নবাবের বংশধরা। সীতাপুরে মেহমুদাবাদে এখনও আলি নকি খানের বাড়িতে জ্বলে দিওয়ালিতে মাটির প্রদীপ। তাঁরা নাবাব নিজেদের ওয়াজিদ আলি শাহ-এর বংশধর বলে দাবি করেন। ওয়াজিদ আলি শাহ ছিলেন ধর্ম প্রাণ শিয়া মুসলিম। কিন্তু অংশ নিতেন হিন্দুধর্মের দিওয়ালি ও হোলির মতো উৎসবে।

সেই ধারা বয়ে নিয়ে চলেছেন তাঁর উত্তরসূরীরাও। ১৯২০-র দশক অবধিও মেহমুদাবাদে সবার আগে আলি নকি খানের বাড়িতে দিওয়ালিতে প্রথম জ্বলত প্রদীপ। তারপর মহল্লার অন্য বাড়িতে। সম্মান প্রদর্শনের এই রীতি অবশ্য কবেই চলে গেছে।

কলকাতা-লখনৌ‚ এই দুই তরফের বংশধারার আপত্তি এক ফরাসি নাগরিককে নিয়ে। জন্মসূত্রে ইরানিয়ান ওই মহিলার নাম জাহানারা ফে অ্যারে। তাঁর দাবি তিনি ওয়াজিদ আলি শাহ ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর সরাসরি বংশধরের স্ত্রী। জাহানারা Royal Awadh Cultural and Heritage Foundation বা RACH নামে একটি সংস্থা পরিচালনা করেন। চ্যারিটির জন্য নীলাম করে থাকেন নিজের গয়না। কিন্তু নিরাপত্তার খাতিরে বলেন না স্বামীর নাম।

কিন্তু কলকাতা ও লখনৌ‚ এই দুই শহরে নবাবের বংশধরদের দাবি‚ ওই ফরাসি নাগরিক কোনওমতেই ওয়াজিদ আলি শাহ-এর বংশের বধূ নন।

নবাবের প্রয়াণের ১৩০ বছর পরে চলতেই থাকে বিতর্ক। মেটিয়াবুরুজের আনাচে কানাচে ভেসে বেড়ায় ওয়াজিদ আলি শাহ্-এর ঠুংরি।

বাবুল মোরা নৈহর ছুটো হি জায় …

- ইন্টারনেট


মন্তব্য