kalerkantho


সাউথ সুদানে সেনা সদস্যদের সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

বিচার হবে উন্মুক্ত, মিডিয়ার সামনে: সেনা কর্তৃপক্ষ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৭ ১৯:৩১



বিচার হবে উন্মুক্ত, মিডিয়ার সামনে: সেনা কর্তৃপক্ষ

সাউথ সুদানে চার সেনা সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত মাসে রাজধানীর পাশেই এক ছোট গ্রামে এ ঘটনা ঘটায় তারা। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন যারা, তারাই অভিযোগ তোলেন। এই চার সেনা সদস্য সেনাবাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহারের উপমা হয়ে উঠছেন।

সেনা কর্তৃপক্ষের সামনে ৫ জন নারীকে হাজির করেন স্থানীয় এক বিশপ। ওই ৫ তরুণি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের  শিকার হয়েছেন। কুবি গ্রাম থেকে তাদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীতেও নিয়ে যাওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল লুল রুয়াই কোনাং জানান, তিন সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হবে। চতুর্থ জন পালিয়ে গেছে। এর জন্য একজনকে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে আটক করা হয়েছে।

'এটা ধর্ষণের অপরাধ। তারা এ কাজ করেছে এবং তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিচার মিডিয়ার কাছে উন্মুক্ত থাকবে', বলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।

এ বিশ্বের কনিষ্ঠতম রাষ্ট্র দক্ষিণ সুদান। ২০১৩ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডিনকা গোষ্ঠীর সালভা কির তার ডেপুটি নুয়ের গোত্রের রিয়েক মাচারকে চাকরিচ্যুত করলে গৃহযুদ্ধ লেগে যায়।

এই গৃহযুদ্ধ ক্রমেই জাতি-গোত্রের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং নৃশংসতা মাত্রাছাড়া রূপ নিতে থাকে। এক পর্যায়ে জাতিসংঘ ঘোষণা দেয়, অবস্থা ব্যাপক গণহত্যার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

দেশটির ১১ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ৩ মিলিয়নই তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। জাতিসংঘ শুধু রাজধানীতেই শত শত ধর্ষণের খবর নথিভুক্ত করে। সেনাবাহিনী এবং বিদ্রোহী উভয় বাহিনী নৃশংস ধর্ষণকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে থাকে।

মানবাধিকার বিষয়ে সংস্থাগুলো অভিযোগ তুলেছে সেনাবাহিনীর প্রতি। তারা বলে, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে দমিয়ে রাখার কৌশল হিসাবে ধর্ষণের ঘটনাকে তেমন পাত্তা দেয়নি সেনাবাহিনী। কিন্তু কুবি গ্রামে এই ধর্ষণের ঘটনা থেকে অভিযুক্তরা মুক্তি পাবে বলেই জানিয়েছেন কোনাং।

অপরাধ জেনেও কোনো সেনা সদস্য ধর্ষণ করলে তার পুরো দায় নেবে না সুদান পিপলস লিবারেশন আর্মি।

গত মাসেই প্রেসিডেন্ট কির বলেছিলেন, ধর্ষকদের গুলি করে মারা হবে।

কোনাং জানান, ধর্ষক সেনা সদস্যদের দমাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে গোটা সেনাবাহিনী।

গতমাসেও ঘটেছে শত শত ধর্ষণকাণ্ড। কিন্তু সেগুলো তদন্ত করা হয়নি। কাজেই বিচারকার্যও আশা করা যায় না। ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন হেড অব মিলিটারি কোর্টস এবং ডিরেক্টর অব মিলিটারি জাস্টিস। তাদের অভিযোগ, সেনা সদস্যরা সিভিলিয়ানদের ক্রমাগত ডাকাতি, ধষর্ণ এবং খুন করে চলেছে। প্রেসিডেন্টের জাতিগোষ্ঠীর প্রতি দুর্বলতার কারণে এসব বিচারকার্য অধরাই থেকে গেছে। সূত্র: এমিরেটস

 


মন্তব্য