kalerkantho


এবেলার প্রতিবেদন

মসুলে খোঁজ মিলল আইএসের আরও এক গণকবরের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ মার্চ, ২০১৭ ১৬:০৬



মসুলে খোঁজ মিলল আইএসের আরও এক গণকবরের

আইএসের হাতে অপহৃত হয়েছে হাজারো মানুষ। এদের কেউ সরকারি সেনা, কেউ সাংবাদিক, আবার কেউ ব্যবসায়ী। এমনকি পর্যটকরাও আছে এই দলে। কিন্তু এদের অধিকাংশেরই কোনো খোঁজ নেই গত কয়েক বছর। কাউকে কাউকে চিহ্নিত করা গিয়েছে আইএসের নৃশংস খুনের ভিডিও দেখে। কিন্তু, অধিকাংশকেই আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ইরাকের মসুল ছিল আইএসের অন্যতম বড় ঘাঁটি। ২০১৪ সালে এই শহরের দখল নিয়ে কার্যত এটাকে দুর্গে পরিণত করেছিল আইসিস। আড়াই বছরের মাথায় মসুল পুনরায় দখল করেছে ইরাক। এবার তাই চলছে আইএস নৃশংসতার খোঁজ। এই সন্ধানেই খোঁজ মিলেছে মসুলে এক গণকবরের।

মসুল বিমানবন্দর থেকে ৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে এই গণকবরকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে আইএসের যে বর্বরতার ছবি মিলেছে তাতে সকলেই অবাক হয়ে গিয়েছেন।  

এই গর্তের সামনে নাকি লাইন দিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো হাত-পা বাঁধা বন্দিদের। এরপর তাদের ওপর চলত নির্বিচারে গুলি। একজন বন্দিকে গুলিতে ঝাঁঝরা করার পর তার দেহকে লাথি মেরে গর্তে ফেলে দেওয়া হতো। ১০০ ফুট চওড়া এবং প্রায় হাজার ফুট গভীর এই গর্তের শেষ কোথায় তা কেউ ঠিক করে বলতে পারেন না। এই গর্তের নিচে পানিও ছিল। কিন্তু লাশের স্তূপে সেই পানির স্তর চাপা পড়ে গিয়েছে। গর্তের চারপাশে এখনও লেগে রয়েছে রক্তের দাগ। গর্তের গায়ে এখন ঝুলছে পচে যাওয়া লাশ। গর্তের চারপাশে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে বন্দিদের জুতো, রুমাল।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ধরনের গর্তকে 'খসফা' বলেন। তাদের দাবি, জঙ্গিদের হুমকিতে তাদের এই হত্যালীলার দর্শক হতে হতো। এমনকি তেলকূপে তেল নিতে আসা লোকেদেরও ধরে আনা হতো দর্শক হওয়ার জন্য। আইএস জঙ্গিদের হুঁশিয়ারি ছিল প্রকাশ্যে যারা এই নিয়ে কথা বলবে তাদেরকেও লাশ বানিয়ে ওই গর্তে ফেলে দেওয়া হবে।  

এ ব্যাপারে ইরাকের মানবাধিকার কমিশনের দাবি, মসুল দখলের পর শয়ে শয়ে বন্দিদের খুন করে 'খসফা'য় ফেলে দিয়েছিল আইএস জঙ্গিরা। অনুমান করা হচ্ছে খুন হওয়াদের মধ্যে অধিকাংশই শিয়া, ইয়াজিদি এবং খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। আইএসের চোখে এরা বিধর্মী। অনুমান করা হচ্ছে অন্তত হাজার দশেক দেহ রয়েছে এই গর্তে।

সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধের সময়ও বহু ইরাকি সেনা নিখোঁজ হয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০০৩ সালে এই গর্তে প্রচুর ইরাকি সেনাকে খুন করে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

সংবাদ সংস্থা এফপি জানিয়েছে, ইরাক এবং সিরিয়াজুড়ে এমন ৭২টি গণকবরের খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ইরাক সরকার সূত্রে জানানো হয়েছে, মসুলই নয়, ইয়াজিদি অধ্যুষিত তিকরিত এবং সিঞ্জর শহরেও সন্ধান মিলেছে গণকবরের। তিকরিত শহরেই ১৭০০টি মৃতদেহের সন্ধান মিলেছে।


মন্তব্য