kalerkantho


সরে দাঁড়ালেন ট্রাম্পের অ্যাটর্নি জেনারেল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ মার্চ, ২০১৭ ১২:০০



সরে দাঁড়ালেন ট্রাম্পের অ্যাটর্নি জেনারেল

রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়োগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস সরে দাঁড়িয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তিনি এ ঘোষণা দেন।

গত বছরের জুলাই ও সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে দুবার বৈঠক করার অভিযোগ ওঠে জেফ সেশনসের বিরুদ্ধে। রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের কথিত যোগাযোগ নিয়ে তদন্ত করছে এফবিআই। এরই মধ্যে তদন্তের স্বার্থে নিজেকে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে সরিয়ে নিলেন জেফ সেশনস। বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, প্রভাবশালী সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, গত বছরের জুলাই ও সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে দুবার বৈঠক করেছিলেন সেশনস।

কংগ্রেসে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার শুনানিতে সেশনস যা বলেছিলেন, এ খবর দৃশ্যত তার বিপরীত। শুনানিতে তিনি রুশ কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাচন নিয়ে কথা বলার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রুশ সংশ্লিষ্টতার জেরেই ট্রাম্প গত মাসের মাঝামাঝি তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে বরখাস্ত করতে বাধ্য হন। ওয়াশিংটন পোস্ট-এ জেফ সেশনসের রুশ যোগাযোগের খবর প্রকাশ পাওয়ার পর বেশ বেকায়দায় পড়েন তিনি। ডেমোক্র্যাট শিবির থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবি ওঠে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছে, গত বছর সিনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য হিসেবে সেশনস রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন বরখাস্ত হওয়ার পর একই ধরনের কাজে অ্যাটর্নি জেনারেল সেশনসের জড়িত থাকার খবরে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের যোগাযোগ এবং নির্বাচনে তাঁর পক্ষে রুশ হ্যাকিংয়ের অভিযোগের বিষয়টি আবার সামনে এল। ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীরা অবশ্য বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের কথিত যোগাযোগ নিয়ে তদন্ত করছে এফবিআই। আর সেশনসের অধীনেই ওই সংস্থা। ফলে তিনি পদে বহাল থাকলে তদন্তও বাধাগ্রস্ত হবে—এই আশঙ্কা থেকেই সরে দাঁড়ানের ঘোষণা দেন ট্রাম্পের নিয়োগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস।

আলাবামা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জেফ সেশনস ৮ ফেব্রুয়ারি সিনেটের ভোটাভুটিতে কোনোমতে উতরে যান। তাঁর পক্ষে ৫২ ভোট ও বিপক্ষে ৪৭ ভোট পড়ে। একজন বাদে ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের সবাই জেফের বিপক্ষে ভোট দেন। পরদিন শপথ নেন তিনি। মানবাধিকার ইস্যুতে জেফের অতীতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আফ্রিকান আমেরিকান ও অন্য সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

 


মন্তব্য