kalerkantho


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

নিজের ভাইকে কেন হত্যা করতে চেয়েছেন?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ মার্চ, ২০১৭ ১১:৪০



নিজের ভাইকে কেন হত্যা করতে চেয়েছেন?

কিম জং-নামই উত্তর কোরিয়ার প্রথম নেতা নন, যিনি দেশটির ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে  হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন। দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের নির্দেশেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কেন তিনি নিজের ভাইকে হত্যা করতে চাইবেন?

উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং অ্যানের সতভাই কিম জং-নামকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের পর এ বিষয়ে এখনও নিশ্চুপ রয়েছে উত্তর কোরিয়া।

এ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসির সংবাদদাতা রুপার্ট উইং-ফিল্ড। তিনি তার বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন, উত্তর কোরিয়ার ঘটনাবলী বুঝতে হলে, প্রথমেই এটা মেনে নিতে হবে যে, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্সি আসলে একটি রাজতন্ত্র, যার নাম কিম পরিবার।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কিম পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা করেন কিম ইল-সাঙ। ১৯৯৪ সালে তার মৃত্যুর পর সে দেশের ক্ষমতায় আসেন তার ছেলে কিম জং-ইল। পাঁচ বছর আগে কিম জং-ইল মারা যান। এরপরই দেশের ক্ষমতায় বসেন তার ছেলে কিম জং উন। তবে কিম জং উন একজন তরুণ, অনভিজ্ঞ নেতা আর তিনি নিরাপত্তাহীনতায়ও ভোগেন।

তাই ক্ষমতায় বসার পর থেকেই তিনি অনেককে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।

কিম জং-নামের একজন বন্ধু অ্যালেক্স হাওয়াঙ বলেন, তিনি কেন এ রকম হত্যা করছেন? কারণ তার ক্ষমতা এখনও পাকাপোক্ত হয়নি। তার বাবা কখনও এভাবে মানুষ হত্যা করেননি। কিন্তু এখন তিনি সবাইকে হত্যা করতে চান। কারণ তিনি তাদের বিশ্বাস করতে পারছেন না।

ঘটনাপ্রবাহ দেখে ধারণা করা যায় যে, নিজের পরিবারের সদস্যদেরই সবচেয়ে বেশি হুমকি বলে মনে করেন নতুন নেতা কিম জং উন। এদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর ক্ষমতাশালী ছিলেন তার খালু জ্যাঙ সঙ-টেক। জং উন যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন জ্যাঙই ছিলেন দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। দেশের ভেতর আর আঞ্চলিকভাবে নেটওয়ার্ক ও বন্ধুদের দিক থেকে তার অনেক যোগাযোগ ছিল।

এদের একজন ছিলেন তার ভাগ্নে মালয়েশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জ্যাঙ ইয়াঙ-ছল। তার মাধ্যমে অন্য আত্মীয়দের সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ রাখতেন, যাদের একজন ছিলেন কিম জং-নাম। কিন্তু ২০১৩ সালে কিম জং উন ৫০ বছরের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দেন তার চাচা জ্যাঙ সঙ-টেককে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে।

পরের এক মাসের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের জড়ো করা হয় এবং রাষ্ট্রদূত জ্যাঙ ইয়াঙ-ছলকে দেশে ডেকে পাঠিয়ে তারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তার একজন খালা এবং মেয়ে এখন প্রবাসে লুকিয়ে রয়েছেন। ফলে কিম জং-নাম নিঃসঙ্গ আর সহায়হীন হয়ে পড়েন। তিনি চরম অর্থসংকটেও ভুগছিলেন।


মন্তব্য