kalerkantho


ইরাকে পরাজয় 'মেনে' নিয়েছেন আইএস প্রধান বাগদাদি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ মার্চ, ২০১৭ ০৮:৫৩



ইরাকে পরাজয় 'মেনে' নিয়েছেন আইএস প্রধান বাগদাদি

ইসলামিক স্টেট (আইএস) প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি 'বিদায়ী ভাষণে' ইরাকে নিজেদের পরাজয় 'স্বীকার' করে নিয়েছেন। তিনি অ-আরব যোদ্ধাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অথবা নিজেদের বিস্ফোরিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইরাকি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আল-সুমারিয়ার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া।

আইএসের স্বঘোষিত খলিফা বাগদাদি মঙ্গলবার বিদায়ী ভাষণ শিরোনামে একটি বিবৃতি আইএস যোদ্ধা ও নেতাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আইএসের সর্বশেষ শক্তিশালী ঘাঁটি মসুলের দিকে ইরাকি বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার সময় এ বিবৃতি বিতরণ করা হলো।

নিনেভাহ প্রদেশের ইরাকি সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, বাগদাদি আইএস যোদ্ধাদের কার্যালয় বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। আইএসের অ-আরব যোদ্ধাদের বাগদাদি নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অথবা নিজেদের উড়িয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

যারা নিজেদের উড়িয়ে দেবে তাদের বেহেশতে ৭২ জন নারী পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাগদাদি।

আইএস নেতা বাগদাদি এর আগে বেশ কয়েকবার আহত হয়েছেন। তার মৃত্যুরও বেশ কয়েকবার গুজব ছড়িয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র তার মাথার দাম ১০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছে।

অবশ্য এটা স্পষ্ট নয় যে, বাগদাদি এখনও আইএসের দখল করা মসুল শহরেই অবস্থান করছেন নাকি অন্য কোথাও আছেন। ২০১৪ সালে এই মসুল দখল করেই আইএসের খিলাফতের ঘোষণা দিয়েছিলেন বাগদাদি।

আবু বকর আল-বাগদাদির প্রকৃত নাম ইব্রাহিম আল-সামারাই। দুই বছর আগে ইরাকি এই নাগরিক নিজেকে ইরাক ও সিরিয়ার বড় একটি ভূখণ্ডের খলিফা হিসেবে ঘোষণা করেন। তার প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

খবরে বলা হয়েছে, আইএসের বেশির ভাগ নেতাই ইরাক ছেড়ে পালিয়ে পাশের দেশ সিরিয়া চলে গেছে। আইএসের দখলকৃত মসুল পুনরুদ্ধারে গত বছর ১৭ অক্টোবর মার্কিন সহযোগিতায় বড় ধরনের অভিযান শুরু করে ইরাকি বাহিনী। প্রায় ১০০ দিনের লড়াই শেষে গত জানুয়ারিতে পূর্ব মসুল দখলে নেয় ইরাকি বাহিনী।

এর পর টাইগ্রিসের মসুলের পশ্চিমে অবস্থিত স্থানে এক সপ্তাহ আগে আক্রমণ শুরু করে তারা। সর্বশেষ সোমবার মসুলের ধ্বংস হওয়া একটি সেতু পুনরুদ্ধার করেছে ইরাকি বাহিনী। এ সেতুটি টাইগ্রিস নদীর দুই প্রান্তের বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়াবে মনে করছে ইরাক।
সূত্র : এনডিটিভি


মন্তব্য