kalerkantho


শিব সেনারা আমাদের 'সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী': বিজয়ী মুসলিম নেতা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:১৮



শিব সেনারা আমাদের 'সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী': বিজয়ী মুসলিম নেতা

কট্টোর হিন্দুত্ববাদী আদর্শে বিশ্বাসী এক দলের নাম শিব সেনা। ভারতে এরা সংখ্যালঘু মুসলমানদের জন্য প্রায়ই আতঙ্কের কারণ হয়ে থাকেন।

এমনকি দেশটির অনেক প্রগতিশীল হিন্দুরাও শিব সেনাদের থেকে দূরে দূরে থাকতে চান। কিন্তু পূর্ব বান্দ্রার বেহরামপাড়ায় মুসলমান ও শিব সেনাদের সম্পর্ক ভিন্ন সুরে বেজে উঠলো। মুম্বাইয়ের পৌর নির্বাচনে বিজয়ী দুই মুসলিম প্রার্থী শিব সেনাদের সত্যিকার শুভাকাঙ্ক্ষী বলে মন্তব্য করলেন।

এ নির্বাচনে মুসলিমদের দল ৫ জন প্রার্থীকে মাঠে নামিয়েছিলেন। তাদের মধ্য দুই জন বিজয়ী হয়েছেন। ব্যাপক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ৮৪টি আসনের দখল নিয়েছেন ভোটারদের সমর্থনে।

বেহরামপাড়ার ৯৬ নম্বের ওয়ার্ডে বিজয়ী হয়েছেন হাজি হালিম খান (৩৫)। তার মতে, সমাজের বিশেষ একটা অংশ শিব সেনাকে 'মুসলিম-বিরোধী' বলে মিথ্যাচার চালায়। মুসলিমদের প্রতি শিব সেনাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে বিশেষ কিছু অংশ।

বরং শিব সেনারাই আমাদের সব ধরনের সমস্যা নিরসনে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারাই আমাদের সত্যিকার শুভাকাঙ্ক্ষী।

হালিম খান আরো বলেন, আমার মনে আছে, আমাদের বিশেষ কয়েকটা মসজিদের মধ্যে একটির প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছিল যখন বালাসাহেব ঠাকরাইজি এগিয়ে এসেছিলেন। এখানকার মুসলমানদের কেবল ভোট ব্যাংক হিসাবে বিবেচনা করার জন্য কংগ্রেসকেও দোষারোপ করেন তিনি। বলেন, কংগ্রেস মুসলমানদের ভোট-ব্যাংক ছাড়া আর কিছুই ভাবে না। কিন্তু শিব সেনারা প্রত্যেকে মুসলমানকেই দেশের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে ও দেশের জন্য কাজ করতো উৎসাহ জোগান। বালাসাহেব সব সময় 'সাচ্চা মুসলমান'দের  প্রশংসা করতেন।

আরেক বিজয়ী মুসলিম প্রার্থী হলেন শাহিদা খান (৫২)। তিনি শহরতলী আম্বোলি এবং জোগেশ্বয়ারির প্রতিনিধিত্ব করবেন। তিনিও হালিম খানের মতে একমত পোষণ করেছেন। বলেন, যেকোনো মানুষ কোনো সমস্যা নিয়ে আসলে শিব সেনারা সব সময় হাত বাড়িয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুসলমানদের কাছাকাছি আসতে শিব সেনাদের প্রচেষ্টা  একরাতের নয়। বরং এটা যথাযথ পরিস্থিতিতে সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই হয়েছে। এতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়চে চারদিকে।

এক সংবাদপত্রের স্থানীয় প্রতিনিধি এবং শিব সেনাদের মুখপাত্র অনিল তিওয়ারি বলেন, আমরা কখনোই সংস্কৃতি ও ধর্মকে ভিত্তি করে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চালাই না। এ কাজে পত্রিকাকেও ব্যবহার করি না। একটু দেরিতে হলেও আমরা মুসলমানদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করি এবং একযোগে কাজ করতে এডিটোরিয়াল কনটেন্ট প্রকাশ করতে থাকি। এ কাজে আমরা সফল হয়েছি বলেই মনে করি। সূত্র: ডেক্কান হেরাল্ড

 


মন্তব্য