kalerkantho


ভাত জোটে না ‘‌ডাকাতরানী’‌ ফুলনের মায়ের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০৮



ভাত জোটে না ‘‌ডাকাতরানী’‌ ফুলনের মায়ের

ফুলনের বোন

এককালে তাঁকে রাস্তায় দেখলেই কুর্নিশ করত লোকজন। বাড়িতে লোকের আনাগোনা লেগেই থাকত।

ঘরে অঢেল খাবার, কাপড়। এখন সেসব কাপড়ের ছেঁড়া–ফাটা অংশ, প্লাস্টিক জুড়েই তৈরি করেছেন মাথা গোঁজার ঠাঁই। দিনের পর দিন অভুক্ত থাকাই নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে মুলা দেবীর।

ছোট মেয়ে রামকালি ১০০ দিনের কাজ করে মাসে বড়জোর ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পান। তাতে গোটা সংসারের পেট চলে না। উত্তরপ্রদেশের এই বুন্দেলখণ্ড খরা প্রবণ। গত বছর বুন্দেলখণ্ডের এই জালাউনে খরার প্রভাব খতিয়ে দেখতে এসেছিল এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনের প্রধান কুলদীপ বৌধ জানালেন, ‘‌মুলা দেবীর বাড়িতে গিয়ে দেখি ২৫০ গ্রাম পেঁয়াজ আর সামান্য ময়দা পড়ে রয়েছে। না খেতে পেয়ে মরার অবস্থা ছিল ওঁদের।

’‌

শেখপুরের বাইরে ৩ বিঘা জমি ছিল মুলা দেবীর। সেই ঘিরেই যত ঝামেলা। দলিত ফুলনকে গণধর্ষণ করে উচ্চশ্রেণীর ঠাকুররা। বদলা নিতে বন্দুক হাতে নেন ফুলন। ১৯৮১ সালে বেহমাইতে ২২ জন ঠাকুরকে গুলি করে মারেন। ১৯৮৩ সালে আত্মসমর্পণ করেন ফুলন। ৪৮টি অপরাধের মামলা দায়ের হয়। ১৯৯৪ সালে জেল থেকে ছাড়া পান। ২ বছর পর সপা’র টিকিটে মির্জাপুর আসন থেকে লোকসভা নির্বাচন জয়লাভ করেন। ১৯৯৯ সালে ফের লোকসভা নির্বাচন জিতে সাংসদ হন। ২০০১ সালের ২৫ জুলাই দিল্লিতে সরকারি বাড়ির সামনেই খুন হন ফুলন। গাজিয়াবাদে তাঁর চাষের জমি, বাড়ি, পেট্রোল পাম্প ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর সবই বেহাত হয়। ছিটেফোঁটাও পায়নি পরিবার। সাহায্যের জন্যও কেউ এগিয়ে আসেনি।

সপা সুপ্রিমো মুলায়ম ফুলনের বোন রামকালিকে ভোটের টিকিট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। আগে বিভিন্ন দল ভোট প্রচারের মঞ্চে ফুলনের বোনকে নিয়ে যেত। বদলে ২০০ টাকা হাতে গুঁজে দিত। যেই দলের হয়ে প্রচার করতেন রামকালি, অন্য দল ক্ষেপে যেত। হুমকি আসত। বাধ্য হয়ে আর প্রচারে যাননি। কল্পি বিধানসভার আওতায় পড়ে ফুলনের গ্রাম। বর্তমান বিধায়ক কংগ্রেসের উমা কান্তি। বিপক্ষে বসপা’র ছোট সিং। ২০০৭ সালে তিনি এই আসনে জিতেছিলেন। সিংয়ের কথায়, ফুলনের পরিবারের সদস্যকে চাকরি দেয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু যোগ্যতা না থাকায় হয়নি। মুলা দেবীর অবশ্য রাজনীতিকদের থেকে খুব বেশি আর আশা নেই। সঙ্কল্প একটাই, যে তাঁকে খেতে দেবেন, তাঁকেই ভোট দেবেন।

সূত্র: আজকাল


মন্তব্য